Main Menu

আমেরিকান আদিবাসী, আরিজোনার মরু পাহাড়, তামার খনি আর মহাকাশে বসতি

ড: নওশাদুল হক, মেলবোর্ন:গতকাল সকালে ফিনিক্স থেকে ফ্লোরেন্স এর উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলাম। আমার সহকর্মী গাড়ী চালানো শুরু করলো। আধঘন্টা মত চালানোর পর টেম্পা পার হয়ে গোল্ড ক্যানিয়ন ও মাউন্ট সুপারস্টিষন এসে গেলো। ও পাহাড়ের নামকরন (বাংলায় কুসংস্কার) নিয়ে মন্তব্য করলো। ওই রাস্তাটা টুসোন্ (বানানের ভিত্তিতে উচ্চারন করলে টাক্সন হবে) এর দিকে চলে গেছে। আমরা ওই রাস্তা থেকে বের হয়ে ফ্লোরেন্সের দিকে রওনা হলাম। ফিনিক্স শহরটাই ভ্যালীতে, চারপাশ মাঝারি উঁচু পাহাড় ঘেরা। এতক্ষন একদিকে আমরা পাহাড়ের ধার ঘেঁষেই যাচ্ছিলাম। মাঝে মাঝে স্বল্প উচ্চতার গাছপালা মরু অন্চলের গাছের মত। ঝোপ, পাম জাতীয় গাছ আর নানা রকমের ফনীমনসা, ইংরেজীতে যেসব জাতকে বলে সাকুল্যান্ট।

ফ্লোরেন্সের দিকে যেতেই আস্তে আস্তে আসল মরু পরিবেশটা চোখে পড়া শুরু হলো। রাস্তাটাও আগের চেয়ে সরু আর গাড়ীর পরিমান ও কমে আসতে লাগলো। চারিপাশে বিস্তীর্ণ ফাঁকা জায়গা বুনো ঝোপ আর নানা রকমের ক্যাকটাস্। দুরে উঁচু পাহাডের সারি, ঝড় বাদল বায়ুপ্রবাহ আর আবহাওয়ার অত্যাচারে অভিনব এক আকৃতি ধারন করেছে। এই ওয়েদারিং এর প্রভাবের কারনেই এসব প্রাকৃতিক ভাবে গঠনকৃত জায়গাগুলোর আকর্ষন আমাদের কাছে। সে টুয়েলভ্ এপোষ্টোল বা ব্লু মাউন্টেইন বা গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন যাই হোক। আমি আন্দিজ পর্বতমালা দেখেছি, আরিজোনার এ পাহাড় সারি সেরকমই, তবে উচচতায় অর্ধেকেরও কম, ২৭০০ মিটারের কাছাকাছি। আকর্ষনীয় কিন্ত ভীতিপ্রদ, রুক্ষ, নীসিম নিরালায় সাবলীল ভঙ্গিতে শান্তভাবে দুর দিগন্তে মিশে গেছে। এ মরু পরিবেশ আর পাহাড় সারি আমার মনে হোলো অনেকটা মোহময়ীর মত কাছে ডেকে নিয়ে ভয়ংকর বিপদে ফেলার জন্য বসে আছে। এখানে বেশ কটা সামরিক স্থাপনা, বিশেষ করে সৈন্যদের মরু আবহাওয়ায় খাপ খাওয়ানোর অভিজ্ঞতা প্রশিক্ষনের জন্য ব্যাবহার হয়। গরমকালে এখানকার তাপমাত্রা অনেক বেশী থাকে।

আমরা আইপ্যাডে লোড করা জিপিএস দেখে তামার খনি খুঁজতে খুঁজতে চলেছি। এরকম অভিজ্ঞতা আগেও আছে। খনিগুলো সাধারণত ঠি কানা বিহীন জায়গায়ই হয় কারন প্রকৃতি কোথায় সম্পদ দিবে তাতে তো আর মানুষের হাত নেই। একবার তাস্মানিয়ার প্রত্যন্ত অন্চলে জিপিএস অনুসরন করছি, একটু পর ‘নোহোয়ারএল্স্ টু গো’ নামে একটা রাস্তায় নিয়ে গেলো। আমাদের বিমান ধরতে হবে সময়মতো। ভারি দুশ্চিন্তা। আমি আর আমার এক দলের সদস্য পরে পিএইচডির ছাত্র কিভাবে কিভাবে কোনোরকমে বিমান ধরেছিলাম। আর একবার কুইনস্ল্যান্ডের এক গ্যাসফিল্ডে অক্ষাংশ দ্রাঘিমাংশ ধরে যেতে হয়েছিলো।

যাহোক শেষমেষ খনির গেট খুঁজে পেলাম। বাইরে থেকে আমার পরিচয় দিতে গেট খুলে দিলো। এটা একটা ভিন্ন ধরনের খনি। কোনো বড় গর্ত বা মাটির নীচে গর্ত নেই। কোনো ভারী যানবাহনও লাগেনা। আমি আট বছর ধরে এটা নিয়ে গবেষনা করছি। খনির পরিচালকের সাথে গল্প জমে উঠলো। আমার সহকর্মীসহ আমাদের নতুন এবং পুরানা গবেষনাপত্র দিলাম তাকে। আমাদের সম্পর্কে বেশ অবগত কারন বিশ্বে এরকম গবেষনা সক্ষমতা খুব বেশী নেই। তারা কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা পিএইচডি বৃত্তি দিয়েছে একজন ছাত্রীকে যাকে আমি বেশ সহযোগিতা করেছি। সে সুত্র ধরেই এই কোম্পানিটির সাথে সহযোগিতামুলক যৌথ গবেষণা পরিকল্পনা। বিশ্বের প্রায় চল্লিশ ভাগের উপরে ইউরেনিয়াম এ পদ্ধতিতে আহরিত হয়। কাজাখাস্তান পৃথিবীর প্রথম উৎপাদনের দিক থেকে, অষ্টৃেলিয়াতে ও আছে। কিন্তু সেটা তামা বা সোনা আহরনের চেয়ে সহজ। যদিও এখনও বড় আংগিকে শুরু হয়নি কোথাও, পৃথিবীতে সবচেয়ে অগ্রনী দুটো কোম্পানীই ফিনিক্সে অবস্থিত বানিজ্যিক ভিত্তিতে এ পদ্ধতিতে তামা আহরনের জন্য পরিকল্পনা করছে। অন্য কোম্পানীটির প্রধান আমাদেরকে ভিজিট করে সময় কাটিয়ে অভিজ্ঞতা আদান প্রদান করেছে কিছু মাস আগে। আমরা এটাকে বলি খনি ছাড়াই খনিজ আহরন বা ইন্ সিটু রিকোভারী - আইএসআর, আবার বলা হয় ইনভিজিবল মাইনিং।

আমরা ছোটবেলায় বাংলাদেশে বোরিং করার দল এসে সেচের জন্য পাইপ পুত্ তো তা দেখতে যেতাম।অনেকটা এরকমই। উপরে একটা পাম্প বসিয়ে পানি তোলা হতো। একটা কংক্রিটের ঘরের মধ্যে এসব স্থাপনার নামই হয়ে গিয়েছিলো বোরিং। আমার মনে আছে আমি তখন হাইস্কুলের ছাত্র। খুব সম্ভবত কোরিয়া অথবা চীনা কোম্পানীর ক্ররা দল নিয়ে এসব করতো। গ্রামের লোকেরা ভিড় করতো দেখতে। বাংলাদেশের মানুষের আগ্রহের কমতি কখনোই ছিলোনা। এ গল্পটা আমি ওদেরকে বলছিলাম। এটা আমাদের এলাকায় সেচ আর ফসল ফলনে এক যুগান্তকারী ভুমিকা রেখেছিলো তখনকার কথিত সবুজ বিপ্লবের মাধ্যমে। এখন নিশ্চয় অগভীর নলকুপের মাধ্যমে সেচ কাজ হয় বাংলাদেশে।কুপ খনন কাজ মোটামুটি সব জায়গায়ই প্রতিষ্ঠিত প্রযুক্তি। যারা খনন কারী দলের সদস্য থাকে তাদের কঠিন পেশা নিয়ে অনেক লেখা আছে। এদের অভিযাত্রিক আনন্দপুলক আর রোমান্চ এতই শক্ত যে একের পর এক পরবর্তি প্রকল্পে যাওয়ার জন্য এদের মাথায় পোকা কিলবিল করে।

আমাদের এ প্রস্তাবিত খনি পদ্ধতিটার মুল কাঠামো টা এরকমই। এরকম অনেক কুপ খনন করতে হবে অনেকটা গ্যাসফিল্ডের মতো। তারপর কিছু কুপ দিয়ে ভিনেগার জাতীয় রাসায়নিক দ্রব্য পানির সাথে মিশিয়ে ভূগর্ভে পাঠাতে হবে। সেটা আমাদের পছন্দের খনিজ পদার্থ টাকে আলাদা করবে। অন্য একটা কুপ দিয়ে টেনে আহরন করতে হবে। এ বিষয়ে সদ্য একটা গবেষনাপত্র বের করেছি। এ বিষয়ে অনেক বলা হলো আর দিনের পর দিন কাটাতে পারবো এ বিষয়ে বলে কেও শুনতে চাইলে ধৈর্য রেখে।

ঘন্টা দেড়েক আলাপ আলোচনার পর, সাধারণত যা হয় আমরা খনিতে যায়। সে বল্লো তার গাড়িতে উঠে পড়তে কারন আমাদের গাড়ী ওরকম জায়গায় যাওয়ার জন্য সজ্জিত আর উপযোগী না।

যেতে যেতে বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক এবং অন্যান্য কথা হতে থাকে। তার বিশ বছরের অভিজ্ঞতা খনিশিল্পে। বড় পুকুর খোঁড়া হয়েছে। আরো সরন্জামাদি বসানো হচ্ছে। সুবিশাল কর্মযজ্ঞ। উঁচু পুকুরপাড়ে দাঁড়ালে অনেক দুর অবধি দেখা যায়।বিস্তীর্ণ ফাঁকা জায়গা শুধু ঝোপঝাড় আর ক্যাকটাস। বেশ দুরে কৃষিকাজ, বল্লো আলফাল্ফা আর তুলার চাষ হয়। এই এলাকায় হচ্ছে কাউবয়দের রাজ্য অনেকটা ওয়েস্টান্ সিনেমা উপন্যাসের পটভূমি আর শুটিং স্পট। টেক্সাস্ কেও ধরা হয় যদিও এরকম ওয়াইল্ড ওয়েস্ট। আরিজোনার মরু অন্চলের বেশীর ভাগ গাছপালা ও প্রজাতি ওরা বড় মরু বোটানিকাল উদ্যানে রেখেছে যেটা আমরা আসার পথে দেখলাম। আদিবাসীরা মেস্কিট নামের একটা গাছের ওপর বেশ নির্ভরশীল। ছোটবেলার দোলনা থেকে শুরু করে, এর বাকলের বিভিন্ন ব্যবহার আছে। এর ফল ও প্রধান খাবারের একটা। আর ক্যাকটাসের চিনি ও রস তাদের খাবারের উৎস অন্যান্য ব্যাবহারাদি সহ।

এখানকার আদিবাসী হোহোকাম রা বহুদিন ধরে আর আগে ফ্লোরেন্স্ নদীর ধারে ধারে বসতি গেড়েছিলো। তারা ছোট ছোট মাটির ঘরে বসবাস করতো। ওরা খোঁড়ার সময় প্রত্নতাত্তিক নিদর্শন পেয়েছে। এরকম একটা ঢিবি দেখলাম যেটা কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রেখেছে। এরকম কিছু সংবেদনশীল জায়গা পাওয়া গেলে ঘোষনা দিয়ে সংরক্ষন করা বাধ্যতামূলক।

সে বেশ একটা বর্ননা দিলো হাজার বছর আগে ওরকম একটা আদি জনগোষ্ঠির। ওই যে ওইখানে একটা ঘর, পাশে চাচার বাড়ী, এদিকে দাদী থাকে, ওপাশটাই ময়লার ভাগাড়। সবাই মাঝখানটাই বসে ভাবের আদান প্রদান করে। শুনে মনে হলো এতো খুব বেশী দুরে যাওয়ার দরকার নেই। এতো আমাদের পাড়াগাঁও এর গল্প। কিছু সময় গভীর ভাবে চিন্তা করলে মনে হয় কবি নজরুলের ‘মানুষ’ কবিতা - দেশে দেশে অভেদ ধর্ম জাতী, সবাই একই মানুষের জ্ঞাতি, এরকম কিছু, যাহোক মনে নেই সঠিক।

এখানে বেশকিছু হাড়গোড় আর মানব দেহের ধংসাবশেষ, ছাই পাওয়া গেছে। এরকম হতে পারে দাদী মারা গেছে, তার ঘরের মধ্যেই তাকে পুডিয়ে তার ছাই পাহারা দেয়া হয়েছে শ্রদ্ধাভরে বেশ কিছুদিন। পুর্বপুরুষদেরকে তারা এভাবেই পুজা করতো।

এসব কথা শুনে আমার বেশ আগ্রহ জন্মালো আমেরিকান ইন্ডিয়ান দের সম্পর্কে। আসার আগে তাই বিখ্যাত হার্ড যাদুঘর দেখতে গিয়েছিলাম যেখানে আদিবাসীদের বংশধরেরা টু্র্ গাইড হিসেবে কাজ করে। হোহোকাম আদিবাসীরা কৃষিকাজে পটু ছিল। খাল খনন আর সেচ কাজ পরিকলপনায় তাদের সুনিপুণ কৌশলী দক্ষতার পরিচয় মেলে। আদিবাসী বাচ্চাদের ধরে নিয়ে জবরদস্তি করে স্কুলে রাখা, বিভিন্ন রকমের শাস্তিমুলক ব্যাবস্থা, নিপীড়নের ইতিহাস অনেক কষ্টের সাথে ওরা বর্ননা করছিলো। কিভাবে দখলকারী মানুষেরা তাদের সহজ সরল কৃষিভিত্তিক জীবন ব্যাবস্থাকে পাল্টে দিয়েছে মন থেকে সেই আর্তনাদের কথা, তাদের ভুমি আর শিকড় থেকে মূলোৎপাটনের ব্যাথার কথা, তাদের প্রবীণদের অনন্যোপায় শক্তিহীনতার কথা তাদের বর্ননা আর অভিব্যক্তিতে প্রকাশ পাচ্ছিলো।

এ ইতিহাস অনেকটা একই রকম দেশে দেশে। ইচ্ছে অনিচ্ছে যেভাবেই হোকনা শিকড় থেকে মূলোৎপাটনের দাহ যে কেমন জ্বালাময় তা পরবাসী মানুষদের বোঝাতে হয় না। কলম্বাসের ভুলের কারনে সবাই ওদেরকে ইন্ডিয়ান ই বলছে। ফিনিক্সে একটা স্টেশনের নাম ইন্ডিয়ান স্কুল। আমি শুনলাম ওখানে আদিবাসীদের নিয়ে পড়ানো হয়।

আমি যেখানটায় দাঁড়িয়ে ছিলাম বাঁধের উপর তার ওপর পাশে রাস্তাটা অতিক্রম করলে পস্টন বিউট নামে একটা পাহাড়। এর চূড়ায় একটা পাথরের পিরামিড। কারন জিজ্ঞেস করতেই ও বলতে শুরু করল। পস্টন সাহেব এই এলাকার প্রতিষ্ঠাতা এবং আরিজোনা রাজ্যের জনকের মত। সে সূর্য উপাষক ছিল। তাই মারা গেলে তাকে পুডিয়ে তার ছাই পাহাড়ের ওপরে পিরামিডের মধ্য রেখে দিয়েছে যেন সে সূর্যের কাছাকাছি থাকে।

এরপর আমরা ফ্লোরেন্স শহরে পুরোনো পাবলো নামের হোটেলে মেক্সিকান খাবার দিয়ে দুপুরের লান্চ সারলাম। আমেরিকান দের খাবার পরিমান বেশী সবসময়। বার্গার আর কোমল পানীয় সবই বড় বড় পাত্রে আর পরিমানে। পরে জানলাম পুরোনো পাবলো আরেকটা উপজাতি গোষ্ঠীর নাম। এলাকাভেদে আরো আছে যেমন নাভাহো, অ্যাপাচি, হোপী আরো অনেক।

আমি যে কন্ফারেন্স টাতে এসেছিলাম সেখানে ইলোন মাস্ক এর টেক কোম্পানী টেস্লার মডেল এক্স গাড়ীটি প্রদর্শনের জন্য রাখা ছিলো। প্রায় হাজার পাঁচেক মত বিশ্বের নামি দামী অধ্যাপক, গবেষক, তাদের পিএইচডি স্কলার, শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রধান, উদ্যোক্তারা জড় হয়েছিলো এখানে। আমিও প্রবন্ধ উপস্থাপন আর সেশন পরিচালনার সুযোগ পেয়েছিলাম যা বেশ আনন্দের। আমি পরিকল্পনা দলে কাজ করার বিরল সুযোগ পেয়েছিলাম যা থেকে অন্যান্য বিজ্ঞানীেদের সাথে কাজের ভালো অভিজ্ঞতা অর্জন করা যায়।

তাদের স্পেস এক্স পরিবহন সাটল ফ্যালকন নাইন এর মডেল ও ছিলো। বস্তুবিজ্ঞানী আর প্রযুক্তিবিদ্ দের সে চ্যালেন্জ দিলো ভালো উপাদান, ধাতু ও শংকর তৈরী আর পরিবহন আবিস্কারের জন্য। মহাকাশ প্রকল্প নিয়ে বলতে গিয়ে প্রেজেনটেশন এর সময় একটা আটিস্ট ইমপ্রেশন দেখালো যে মংগল গ্রহে ভবিষ্যত মানুষের বসতি। অনেকটা ক্যারাভান পার্কের মত কিছু বাসযোগ্য ইউনিট। সাথে স্পেস শাটল ল্যান্ডিং স্টেশন যার গায়ে খোদাই করা লেখা “মেড অন আর্থ বাই হিউম্যান্স” - মানুষের হাতে পৃথিবীতে তৈরী - যদি অন্য কোন গ্রহের বুদ্ধিমান প্রানী জানতে চায়। যদিও বিতর্কের বিষয়, অনেক দুরের দিবা স্বপ্ন কিন্তু কে জানে একদিন কি হবে।

আই বি এম কম্পিউটারের প্রধান বলেছিলো নাকি দুনিয়ায় বড়জোর পাঁচ টা কম্পিউটারের চাহিদা আছে দুর ভবিষ্যতে। আর এখন কতগুলো কম্পিউটার কে জানে। এখনতো অব্যাবর্হিত ইলেকট্রনিক বর্জ্য কিভাবে বানিজ্যিক ব্যাবস্থাপনা ও ব্যাবহার করা যায় তা গবেষনার বিষয়। কে জানতো আমি ফোনে বাংলাদেশের গ্রামে আমার মা বাবাকে আমি কোথায় কি করছি জীবন্ত দেখাতে পারবো। এতো গত কিছু বছরের প্রযুক্তির উন্নয়ন আর পরিবর্তন। একরোখা ভবিষ্যতবানী করা খুবই বিপদজনক কাজ।

যদিও এখনও অর্থহীন বিভেদের কারনে অসহায় নিরপরাধ মানুষ দুর্ভাগ্যজনকভাবে জীবন হারাচ্ছে।সেজন্য সব মানব সমাজের আসল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত বিভেদটা কি করে কমানো যায়। মানুষের বিশ্বাস, কৃষ্টি আর সাংস্কৃতিক আনুষ্ঠনিকতার ভিন্নতার শেষ নেই। অতীতের ইতিহাস অসহিষ্নুতা, অবিচার নিয়ে ঘাটাঘাটি করে বিভেদ বিতর্ক বাড়িয়ে আর কতটুকু লাভ। কিনতু ভবিষ্যতে এখানেই আমরা মহত্ত্ব দেখাতে পারি। যার যার বিশ্বাস, সংস্কৃতি, কৃষ্টি, আনুষ্ঠনিকতা সে সে বয়ে নিয়ে যাক, হস্তান্তর করুক পরবর্তি প্রজন্মকে, তবে এক সমাজ আরেক সমাজের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই মানব সভ্যতাকে এগিয়ে নিতে হবে সবাই মিলেমিশে। না জেনে গৎবাঁধা ভুল ধারনার বশবর্তী হয়ে অন্যদের অশ্রদ্ধা করলে সেটা নিজেদের দিকে বুমেরাং এর মত ফিরে আসতে বাধ্য।

১৭-১৮ই মার্চ ২০১৮
লস এন্জেলেস থেকে মেলবোর্ন বিমান যাত্রার সময়


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT