Main Menu

উইঘুর মুসলিমদের নির্যাতন, চীনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারির ভাবনা যুক্তরাষ্ট্রের

দীর্ঘদিন ধরেই উইঘুর মুসলিমদের ওপর নির্যাতন চললেও বিশ্বের কারো কোনো টনক নড়েনি। কিছু মিডিয়ায় প্রতিবেদন প্রকাশ ছাড়া এ নিয়ে আর কোনো কিছু লক্ষ্য করা যায়নি। বিশ্বের মোড়লরা জেনেও বিষয়টি এড়িয়ে চলেছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে চীনা সরকার মধ্যযুগীয় কায়দায় মুসলিমদের ওপর নির্যাতন চালানোয় এ বিষয়ে বিশ্বের অনেক নেতাই নড়েচড়ে বসেছেন।

এরই অংশ হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন চীনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার কথা ভাবছে। বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্যের বরাতে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের খবরে জানানো হয়, উইঘুরসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের লাখো মানুষকে বন্দিশিবিরে রাখার অভিযোগে বেইজিংকে শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশে এ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এই অর্থনৈতিক অবরোধ হবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে চীনের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া প্রথম পদক্ষেপ।

<iframe frameborder="no" height="250" id="ox_7411572136_538413883" name="ox_7411572136_538413883" scrolling="no" width="300"></iframe>

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা চীনের কাছে মার্কিন নজরদারি প্রযুক্তি বিক্রিও সীমিত করতে চাইছেন। চীনের নিরাপত্তা সংস্থা ও কোম্পানিগুলো উত্তর-পশ্চিম চীনে বসবাসকারী উইঘুরদের ওপর নজরদারির জন্য এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করে।

সংখ্যালঘু মুসলমানদের সঙ্গে খারাপ আচরণের জন্য চীনকে ভৎসর্না করার ব্যাপারে বেশ কয়েক মাস হলো হোয়াইট হাউস এবং অর্থ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে দুই সপ্তাহ আগে কংগ্রেস সদস্যরা পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ও অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মানুচিনকে সাতজন চীনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে বলার পর বিষয়টিতে নতুন করে প্রাণসঞ্চার হয়।

এর আগ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চীনকে তার মানবাধিকার রেকর্ডের কারণে শাস্তি দেওয়া অথবা ব্যাপক লঙ্ঘনের অভিযোগ আনতেও বাধা দিয়ে এসেছেন। নিষেধাজ্ঞাটি অনুমোদিত হলে বেইজিংয়ের সঙ্গে বাণিজ্য নিয়ে বিরোধ এবং উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধে চাপ দেওয়ার কারণে ইতিমধ্যে তৈরি হওয়া তিক্ততা আরও বাড়িয়ে দেবে।

গত মাসে জাতিসংঘের একটি প্যানেল উইঘুরদের আটক নিয়ে জেনেভায় চীনের কূটনৈতিকদের সওয়াল করেন। চীনা মুসলমানদের বন্দিশিবিরগুলো ক্রমে আন্তর্জাতিক সমালোচনা ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের লক্ষ্য হয়ে উঠছে।

কংগ্রেসসহ সরকারের সর্বস্তরে আলোচনার পর অর্থ মন্ত্রণালয় যেকোনো নতুন আমেরিকান নিষেধাজ্ঞার কথা ঘোষণা করবে।

চীনা মুসলমানদের শিবিরগুলোয় রোজ ক্লাসে উপস্থিত হতে, ইসলাম ধর্মের বিষয়গুলোকে নিন্দা করতে, মূলধারার চীনা সংস্কৃতি অধ্যয়ন করতে এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করতে বাধ্য করা হয়।

উইঘুর মুসলিমদের ওপর চীন সরকারের অকথ্য নির্যাতনের কাহিনী
পশ্চিম চীনের একটি মরুভূমিতে চীন সরকার একটি বিল্ডিং তৈরি করেছে যেটাকে সার্বক্ষণিক পাহারা দিয়ে যাচ্ছে একদল সৈন্য এবং এর চারদিক বৈদ্যুতিক তার দ্বারা বেষ্টিত। এই বিল্ডিংয়ে জনগণকে চীনা ভাষা এবং দেশটির আইন কানুন শিক্ষা নেয়ার জন্য লাল কালিতে দেয়ালের উপরে লিখা রয়েছে। ভবনটির নিরাপত্তা কর্মীরা জানিয়েছেন, তারা দর্শনার্থীদের স্বাগত জানান না।

ভবনটির ভেতরে শত শত উইঘুর মুসলিমকে আটক করে রাখা হয়েছে এবং তারা সেখানে উচ্চ মানসিক চাপের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষ থেকে সেখানকার বন্দীদেরকে ‘নিজের বিরুদ্ধে সমালোচনা’ শিরোনামে প্রবন্ধ লিখতে দেয়া হয়।

এর উদ্দেশ্য হচ্ছে বন্দীদের হৃদয় থেকে ইসলামের প্রতি অনুরাগ দূর করা।

আবদুস সালাম মুহেমেত নামের ৪১ বছর বয়সী একজন চীনা মুসলিম জানান একটি অন্ত্যষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানে পবিত্র কুরআন থেকে একটি সূরা তিলাওয়াত করার কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুই মাস তথাকথিত ‘রাজনৈতিক দীক্ষাদান’ কেন্দ্রে আটক থাকার পরে মুহেমেত সহ আরো অন্তত ৩০ জন মুসলিমকে তাদের অতীত জীবন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিতে বলা হয়।

তিনি জানান, ‘এই স্থানটি এমন একটি জায়গা যেখানে বন্দীদেরকে প্রতিহিংসা পরায়ণ হতে উৎসাহিত করা হয় এবং তাদেরকে উইঘুর পরিচয় ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়।

এই ভবনটি চীনের হোতান রাজ্যের ঐতিহাসিক তাকলামাকান মরুভূমিতে দেশ ব্যাপী রাজনৈতিক দীক্ষা দান কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার অংশ হিসাবে নির্মাণ করা হয়। এসব ভবন এ জন্য নির্মাণ করা হয় যাতে করে দেশটির হাজার হাজার মুসলিমকে কোনো ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ ছাড়াই মাস ব্যাপী আটক করে নির্যাতন চালানো যায়।

চীনের জিনজিয়াং প্রদেশটি মাওসেতুংয়ের সময় থেকেই সাধারণ জনগণকে আটক করে রাখার জন্য কুখ্যাতি অর্জন করেছে যার ফলে অঞ্চলটি বিভিন্ন সময়ে আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছে।

কয়েক দশক ধরেই চীন সরকার জিনজিয়াং প্রদেশে ইসলাম চর্চার উপর কড়াকড়ি আরোপ করে রেখেছে। এই অঞ্চলটি আয়তনে যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা রাজ্যের সমান এবং এখানে ২৪ মিলিয়নেরও অধিক নৃতাত্ত্বিক মুসলিমের বসবাস। এখানকার বেশীরভাগ মুসলিমই উইঘুর জাতির। যাদের সংস্কৃতি এবং ধর্ম সম্পর্কে চীনা সরকার অতীত কাল থেকেই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং তারা বেইজিংয়ের উদ্বিগ্নতার কারণ হয়ে আছে।

২০১৪ সালে অঞ্চলটিতে সরকার বিরোধী বিদ্রোহ চরমে পৌঁছালে দেশটির কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান শি জিন পিং সেখানকার জনগণের উপর চরম ধর পাকড় করার নির্দেশ দেন। তার এই নির্দেশের ফলে উইঘুর মুসলিমদের উপর অকথ্য নির্যাতন চালানো হয়।

‘জিয়ানজিয়াংয়ে অনেক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কার্যক্রম রয়েছে যারা চীন থেকে অঞ্চলটিকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা তাদের এই কার্যক্রমের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে যাচ্ছি।’- শি জিন পিং গত বছর রাষ্ট্রীয় একটি গণমাধ্যমকে একথা বলেছিলেন।

গণ গ্রেপ্তারের পাশাপাশি স্থানীয় পুলিশ অঞ্চলটির বিভিন্ন মুসলিম জনগণের ঘরে আলোকচিত্র ধারণ করতে পারে এমন ক্যামেরা সংযুক্ত করে দিয়েছে।

‘জনগণের প্রতিদিনকার জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করার ষোলকলা পূর্ণ হয়েছে’, অস্ট্রেলিয়ান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জিনজিয়াং বিষয়ক বিশেষজ্ঞ মাইকেল ক্লার্ক এমনটি জানান।

তবে চীন সরকার বরাবরের মতই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে যাচ্ছে। গত মাসে জেনেভাতে অনুষ্ঠিত জাতি সংঘের একটি সভাতে চীন সরকার দাবী করে যে, তারা কোনো প্রকার ‘রাজনৈতিক দীক্ষা দান কেন্দ্র’ চালু রাখেনি। তারা এসব কেন্দ্রকে জনগণের প্রশিক্ষণ নেওয়ার এবং চাকুরী লাভ করার একটি পরিকল্পনা বলে আখ্যায়িত করে।

‘সেখানে কোনো প্রকার অবৈধ আটকাদেশ দেয়া হয়নি’ হু লিনাহে নামের জিনজিয়াংয়ের একজন কর্মকর্তা জাতি সংঘের বর্ণবাদ বিরোধী সংস্থাকে একথা জানান।

জাতিসংঘের বর্ণবাদ বিরোধী সংস্থাটি বেআইনি ভাবে আটক ব্যক্তিদের সংখ্যা প্রকাশ করার এবং তাদেরকে মুক্তি দেয়ার জন্য বেইজিংয়ের উপর চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রেখেছে। তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে তার দেশের সরকার কোনো ব্যক্তিকে বেআইনি ভাবে আটক করে রাখেনি এবং চীনের আইন আদালত অন্যান্য দেশের আইন আদালতের মতই। চীন সরকারের এধরনের মন্তব্য দায়সারা রকমের। বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী এবং জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের নিকটে থাকা প্রমাণ অনুযায়ী চীনের বিভিন্ন অঞ্চলে তথাকথিত এসব ‘রাজনৈতিক দীক্ষা দান কেন্দ্র’ চালু রয়েছে। এসব দীক্ষা দান কেন্দ্র থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম এমন অনেক চাক্ষুষ সাক্ষী বর্তমানে তুরস্ক এবং কাজাখস্তান অবস্থান করছেন।

চীন সরকারের বিভিন্ন নথিপত্রেও দেশটিতে এসব দীক্ষাদান কেন্দ্র চালু রাখার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। তারা এগুলোকে ‘শিক্ষা দানের মাধ্যমে রূপান্তরিত করার কেন্দ্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করে।

সংবাদ মাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস সম্প্রতি এসব দীক্ষা দান কেন্দ্র থেকে মুক্তি পাওয়া চার জন ব্যক্তির সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসকে এসব ব্যক্তি জানিয়েছেন, নিরাপত্তা কর্মীরা তাদেরকে শারীরিক এবং মানুষিক নির্যাতন চালাতো। প্রতিনিয়ত বন্দীদেরকে কমিউনিস্ট পার্টির গুণগ্রাহী সংগীত গাইতে হোত এবং নিজেদেরকে সমালোচনা করে অনুচ্ছেদ লিখতে হোত।

নিউ ইয়র্ক টাইমস এমনকি ইন্টারনেটে প্রকাশিত হওয়া একটি নথি হাতে পায় যাতে দেখা যায় যে, চীনা কর্মকর্তারা আটক ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের উপর প্রতিনিয়ত নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।

‘জীবাণু’ মুক্ত করা
যাদেরকে এসব রাজনৈতিক দীক্ষা দান কেন্দ্র প্রথম আনা হয় তাদেরকে মৃদু ধাক্কা দিয়ে তাদের দিন শুরু করা হয়।

মেহেমুত স্মৃতিচারণ করে বলেন, তিনি সহ অন্তত আরো ডজন খানেক বন্দীকে প্রতিদিন সকালে একটি খোলা মাঠে দৌঁড়াতে বলা হোত। অধৈর্য নিরাপত্তা কর্মীরা অনেকসময় তাদেরকে চড় মারতো।

এর পরে বন্দীদেরকে কমিউনিস্ট পার্টির সংগীত গাইতে বলা হোত । এসব সংগীতে এরকম কয়েকটি লাইন থাকতো যেমন, ‘কমিউনিস্ট পার্টি ছাড়া কখনো নতুন চায়না গড়ে তোলা সম্ভব নয়।’ যেসকল বন্দী এসকল সংগীত মনে রাখতে পারতো না তাদেরকে সকালের নাস্তা দেয়া হোতনা।

মুহেমেত যিনি চলতি বছরে চীন থেকে পালিয়ে এসেছে, তিনি চীনের হোতান রাজ্যে একটি রেস্টুরেন্ট চালাতেন। কোনো কারণ চাড়া চীনা পুলিশ তাকে ৭ মাস আটক করে রেখেছিল এর পরে তিনি অন্তত ২ মাস ‘রাজনৈতিক দীক্ষা কেন্দ্র’ আটক থাকেন।

চীনা কর্মকর্তারা যদিও ইসলামকে নিষিদ্ধ করেনি তবে আটক বন্দীদেরকে জানিয়েছে যে, তারা যেন কমিউনিস্ট পার্টির বাতলে দেয়া উপায়ে ইসলামের চর্চা করে এবং ঘরে কোনো অথিতি আসলে তাদের সামনে যেন নামায পড়া থেকে বিরত থাকে।

মেহেমুত জনান, ‘শেষে সকল নিরাপত্তা রক্ষীরা একত্রিত হয়ে বলত, চীনের কমিউনিস্ট পার্টি মহান একটি দল। উইঘুর সংস্কৃতি সেকেলে এবং চীনা সংস্কৃতি আধুনিকতার সাথে তাল মিলিয়ে চলছে।’

চীনা সরকারী কিছু নথিপত্র অনুযায়ী, গত বছরে জিনজিয়াং প্রদেশে সরকার জনসাধারণের চলাচলের উপর কড়াকড়ি আরোপ করে এবং বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক দীক্ষা কেন্দ্র চালু করে।

সরকারী নথিপত্র এবং স্থানীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী রাজনৈতিক দীক্ষা কেন্দ্রে আটক ব্যক্তিরা রোগাক্রান্ত এবং তাদের জরুরী চিকিৎসা দরকার।

‘যারা আদর্শগত জীবাণুতে আক্রান্ত তাদেরকে অবশ্যই রোগ আরো বেড়ে যাওয়ার পূর্বেই চিকিৎসা দেয়া দরকার।’-চীনা সরকারের ফাঁস হয়ে যাওয়া একটি গোপন নথিতে একথা বলা হয়।

এসব কেন্দ্রে ঠিক কতসংখ্যক মুসলিম আটক রয়েছে তা পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। তবে আশংকা করা হচ্ছে এসব কেন্দ্রে অন্তত কয়েক মিলিয়ন মুসলিম আটক রয়েছে যাদের অধিকাংশই উইঘুর মুসলিম।

চীনের জনসংখ্যার প্রায় ১.৫ শতাংশ মানুষ জিনজিয়াং এ বসবাস করে। তবে গত বছর দেশটিতে আটক ব্যক্তিদের অন্তত ২০ শতাংশকে জিনিজিয়ং থেকে আটক করা হয়। চীনের মানবাধিকার সংস্থা এ তথ্য জানায়। তবে সংস্থাটি রাজনৈতিক দীক্ষা কেন্দ্রে আটক ব্যক্তিদেরকে এ পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত করেনি।

জিনজিয়াংয়ের এক কর্মকর্তা ‘ধর্মীয় উগ্রবাদের’ ৭৫ টি চিহ্ন প্রকাশ করেছে। এতে এমনকি কোনো মুসলিম তরুণের হঠাৎ করে সিগারেট খাওয়া ছেড়ে দেয়াকে উগ্রবাদের সাথে তুলনা করা হয়েছে।

আমরা সমস্যার মধ্যে রয়েছি

হোতানের জনগণের সবসময় এই অনুভব করেন যেনে তাদের পেছনে কোনো অদৃশ্য শত্রু লেগে রয়েছে। কয়েক মাইল পর পর পুলিশ চেক পোষ্ট রয়েছে। অঞ্চলটির প্রত্যেক বিদ্যালয়, কিন্ডারগার্টেন, গ্যাস স্টেশন এবং হাসপাতাল গুলোতে বৈদ্যুতিক তার দিয়ে ঘেরাও করা থাকে।

‘এখানে সবকিছুর মধ্যে একটা অস্থিরতা রয়েছে’, ‘আমরা গত তিন বছর যাবত বিশ্রাম নিতে পারিনি’-স্থানীয় এক পুলিশ কর্মকর্তা একথা জানান।

সরকারী দমন পীড়নের কারণে বর্তমানে উইঘুর অঞ্চলে মহিলারা হিজাব পরিধান করা ছেড়ে দিয়েছেন। মসজিদ সমূহে খুব কম লোকজনই উপস্থিত থাকে। মসজিদে যেতে হলে জনগণকে অবশ্যই নিবন্ধন করতে হয় এবং মসজিদে নিরাপত্তা ক্যামেরা লাগানো থাকে।

২০০৯ সালে জিনজিয়াং প্রদেশে সরকার বিরোধী এক বিক্ষোভের পর থেকে সরকার এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করেছে। সরকারী বাহিনীর গুলিতে সেসময় অন্তত ২০০ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছিল।

জিনজিয়াং প্রদেশে নিরাপত্তার ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য সরকারকে ব্যয় বাড়াতে হয়েছে। অঞ্চলটির পুলিশ, আদালত এবং অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার গত বছর অন্তত ৮.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যায় করা হয়।

গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, জিনজিয়াং প্রদেশের প্রতি ১০ টি পরিবারের সদস্যদের অনুসরণ করার জন্য চীন সরকার একজন করে স্থানীয় কর্মকর্তা নিয়োগ করেছে। এটি করা হয়েছে যাতে করে মুসলিমদের মসজিদে যাওয়া সহ অন্যান্য ধর্মীয় কাজে নজরদারি করার জন্য। স্থানীয় অধিবাসীরা জানিয়েছে মাঝে মধ্যেই পুলিশ কোনো কারণ ছাড়াই তাদের বাসস্থানে তল্লাশি চালায় এবং কোনো ধর্মীয় বই পাওয়া গেলে গৃহ কর্তাকে অমানুষিক নির্যাতন চালায়।

সরকারী কর্মকর্তারা এমনকি জিনজিয়াং প্রদেশের অধিবাসীদের ডিএনএ সংগ্রহ করে রেখেছে। দুইজন উইঘুরু যাদের একজন ছাত্র এবং অন্যজন সাবেক সরকারী কর্মকর্তা জানায়, রাজনৈতিক দীক্ষা কেন্দ্রে তাদের আটক করে বিভিন্ন দিক থেকে তাদের আলোকচিত্র তোলা হয় এবং তাদের রক্তের নমুনা নেয়া হয়।

পরিবারগুলো ভেঙ্গে পড়ছে
চীনা সরকার ইসলামী উগ্রপন্থীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয় হয়েছে বলে দাবী করে। সরকারের মতে যারা চীনে ফাটল ধরাতে চায় এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সহস্রাধিক মানুষকে হত্যা করেছে তাদেরকে দমন করতে চীন সরকার পুরোপুরি সফল। তবে চীন সরকারের দাবীকৃত এসব তথাকথিত সংঘাতের কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।

এরপরেও দেশটির সরকার সন্ত্রাস দমনের নাম করে ২০১৪ সাল থেকে পূনঃ শুদ্ধিকরণ ব্যবস্থা চালু করেছে।

এখনো যারা এসব তথাকথিত দীক্ষা কেন্দ্র থেকে মুক্তি পাচ্ছেন, তারা জানান- এসব দীক্ষা কেন্দ্রের নিযার্তনের ফলে বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভ দিন দিন বেঁড়ে চলছে।

সূত্রঃ নিউইয়র্ক টাইমস।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT