Main Menu

আজ থেকে হাজার বছর পরেও বঙ্গবন্ধুই শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী

আফরিন জামান লীনা: বন্ধুবান্ধবরা বলে, “তোমার জীবনী লেখ। সহকর্মীরা বলে “ রাজনৈতিক জীবনের ঘটনাগুলি লিখে রাখ, ভবিষ্যতে কাজে লাগবে। আমার সহধর্মিণী একদিন জেলগেটে বসে বলল, “বসেই তো আছ, লেখ তোমার জীবনের কাহিনী। বললাম, “লিখতে যে পারি না; আর কি এমন করেছি যা লেখা যায় ! আমার জীবনের ঘটনাগুলি জেনে জনসাধারণের কি কোন কাজে লাগবে? কিছুই তো করতে পারলাম না । শুধু এইটুকু বলতে পারি, নীতি ও আদর্শের জন্য সামান্য একটু ত্যাগ স্বীকার করতে চেষ্টা করেছি”।

 

সবাই ভাবছেন উপরের কথা গুলি আমার????

 

না , এত মহান উক্তি করার মত যোগ্যতা আমার এখনো হয়ে উঠেনি। শুধু আমিই নই এই বাংলাদেশে আর কোন দ্বিতীয় সত্তা এমন উক্তি করার জন্য আর জন্ম নিবে বলে মনে হয়না।

 

আমি কথা বলছি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী ,বাংলাদেশের স্থপতি জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সম্পর্কে। উপরের উক্তিটা তারই লেখা অসামাপ্ত আত্মজীবনী থেকে নেয়া

 

            বঙ্গবন্ধুর জন্ম বা তার ইতিহাস  মুটিভাবে সবারই জানা। তাও আরেকবার ঝালাই করেই বলা। কারন যেভাবে ইতিহাস খেকোরা ইতিহাস খাচ্ছে তাতে করে তার জন্মদিনটা ও যে অদুর ভবিষ্যতে কারো ভুয়া মৃত্যু বার্ষিকী পালন করা হবেনা তারই বা কি গ্যারান্টি আছে।

 

শেখ মুজিবুর রহমান তদানীন্তন ভারতীয় উপমহাদেশের বঙ্গ প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার পাটগাতি ইউনিয়নের মধুমতীর কোল ঘেঁষা টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ  করেন। তার বাবার নাম  শেখ  লুৎফর রহমান। তিনি গোপালগঞ্জ দায়রা আদালতের সেরেস্তাদার (যিনি আদালতের হিসাব সংরক্ষণ করেন) ছিলেন এবং মা'র নাম সায়েরা খাতুন। চার কন্যা এবং দুই পুত্রের সংসারে তিনি ছিলেন তৃতীয় সন্তান। তার বড় বোন ফাতেমা বেগম, মেজ বোন আছিয়া বেগম, সেজ বোন হেলেন ও ছোট বোন লাইলী; তার ছোট ভাইয়ের নাম শেখ আবু নাসের।

 

               বঙ্গবন্ধুর জন্ম টুঙ্গিপাড়ার শেখ বংশে। টুঙ্গিপাড়ার শেখ বংশের নাম তদানিন্তন সময়ে ঐ অঞ্চলে বেশ পরিচিত ছিল। শেখ বোরহান উদ্দিন নামে এক ধার্মিক পির এই বংশের গোড়াপত্তন করেছেন বহুদিন পূর্বে। শেখ বোরহান উদ্দিন কিভাবে এই মধুমতির তিরে এসে গোড়াপত্তন করেছিলেন তার ইতিহাস সঠিক ভাবে না জানা গেলেও তার ( শেখ বোরহানউদ্দিনের ছেলের ছেলে অথবা দু’ এক পুরুষ পরে দুই ভাইয়ের ইতিহাস পাওয়া যায় বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী থেকে। এই দুই ভাইয়ের নাম ছিল শেখ কুদরতুল্লাহ আর এক ভাইয়ের নাম শেখ একরামউল্লাহ। বঙ্গবন্ধু এবং তার পরিবার এই দুইভাইয়েরই বংশধর। এই দুই ভাইয়ের সময় থেকে শেখ বংশ প্রচুর অর্থ সম্পদের মালিক ছিলেন। জমিদারির সাথে সাথে তাদের বিরাট ব্যবসাও ছিল। শেখ কুদরতউল্লাহ ছিলেন সংসারী ও ব্যবসায়ী; আর শেখ একরামউল্লাহ ছিলেন দেশের সরদার,আচার- বিচার তিনিই করতেন।

 

     শেখ কুদরতউল্লাহর একটা ঘটনা এখনো লোকের মুখে মুখে ঘুরে ফেরে। খুলনা জেলার আলাইপুরে মিঃ রাইন নামে একজন কুঠিয়াল সাহেব নীল চাষ শুরু করে এবং একটা কুঠি তৈরি করে। শেখদের নৌকার বহর ছিল। সেইসব নৌকা মালামাল নিয়ে কলকাতায় যেত। মিঃ রাইন নৌকা আটক করে মাঝিদের দিয়ে কাজ করাত এবং অনেক দিন পর্যন্ত আটক রাখত। শুধু শেখদের নৌকাই নয় অনেকের নৌকাই আটকে রাখত। কেউ বাধা দিলে অকথ্য অত্যাচার করত। তখনকার দিনের ইংরেজদের অত্যাচারের কাহিনী প্রায় সবারই জানা। শেখরা তখনও দুর্বল হয়ে পড়ে নাই। রাইনের সাথে কয়েক দফা দাঙ্গাহাঙ্গামা হল এবং কোর্টে মামলা দায়ের হল। মামলায় রাইন হেরে গেল। কোর্ট কুদুরতউল্লাহ কে বলল যত টাকা ক্ষতি হয়েছে জরিমানা করুন, রাইন দিতে বাধ্য। ঐ যুগে এভাবেই বিচার হত। শেখ কুদুরতউল্লাহ রাইনকে অপমান করার জন্য আধা পয়সা জরিমানা করল। রাইন বলেছিল, “ যত টাকা চান দিতে রাজি আছি, আমাকে অপমান করবেন না। তাহলে ইংরেজ সমাজ আমাকে গ্রহন করবে না; কারন ‘ কালা আদমি’ আধা পয়সা জরিমানা করেছে। “কুদুরতউল্লাহ উত্তর করেছিল টাকা আমি গুনিনা, মেপে রাখি। টাকার আমার দরকার নেই। তুমি আমার লোককে অপমান করেছিলে আমি তার প্রতিশোধ নিলাম। কুদরতউল্লাহ শেখকে মানুষ কদু শেখ বলে ডাকত। ‘ কুদরতউল্লাহর আধা পয়সার জরিমানা নিয়ে দুএকটা গানও আছে।

 

   কুদরতউল্লাহর এই ঘটনা থেকেই বোঝা যায় বঙ্গবন্ধুর সাহসী চরিত্র তার বংশানুপরিক্রমার ধারা থেকেই এসেছিল।

 

    বঙ্গবন্ধুর যখন বিয়ে হয় তখন তার বয়স তের বছর। আর রেনু ( ফজিলাতুনন্নেসা মুজিব) এর বয়স তিন বছর। বেগম ফজিলাতুনন্নেসা ওরফে রেনুর বাবা মারা যাবার পরে তার দাদা বঙ্গবন্ধুর বাবাকে ডেকে বলেন তোমার বড় ছেলের সাথে আমার নাতনীকে বিয়ে দাও। তখনকার দিনে মুরব্বিদের আদেশ ফেলা হতনা। তাই মুরব্বির হুকুম মানার জন্যই রেনুর সাথে বঙ্গবন্ধুর বিবাহ রেজিস্ট্রি সেরে ফেলা হয়। বিয়ের পরে বঙ্গবন্ধু জেনেছিলেন তার বিবাহ হয়ে গেছে। বেগম মুজিব বঙ্গবন্ধুর অন্যান্য ভাইবোনদের সাথেই বড় হয়েছিলেন।

 

 ১৯৩৪ সালে সপ্তম শ্রেনীতে পড়াকালীন সময়ে বঙ্গবন্ধু বেরিবেরি রোগে আক্রান্ত হন এবং ১৯৩৬ সালে তার খারাপ হয়ে যায়। দির্ঘসময় রগের চিকিৎসা করানোর জন্য বঙ্গবন্ধু পড়াশোনায় অনেক পিছিয়ে পড়েন। ১৯৩৭ সাল থেকে তিনি আবার লেখাপড়া শুরু করেন এবং গোপাগঞ্জের মিশন স্কুলে ভর্তি হন। এই সময় লজিং মাস্টার হিসাবে বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে কাজী আব্দুল হামিদ এমএসসি কে রাখা হয়। মুলত এই এমএসসির হাত ধরেই বঙ্গবন্ধু সর্ব প্রথম সমাজ সেবায় নামেন। মাস্টার সাহেব ‘ মুসলিম সেবা সমিতি’ নামে একটি সংগঠন করেন। যার দ্বারা গরিব ছেলেদের সাহায্য করতেন। প্রত্যেক  রবিবার থলি নিয়ে মুসলিম বাড়ি বাড়ি মুষ্টি চাল ভিক্ষা করতে উঠাতো আর সেই চাল বিক্রি করে গরিব ছেলেদের বই এবং পরীক্ষার ও অন্যান্য খরচ দিতেন। ঘুরে ঘুরে জায়গিরও ঠিক করে দিতেন। বঙ্গবন্ধুই এই সব কাজ করে দিতেন। হঠাৎ করেই যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়ে মাস্টার সাহেব মারা গেলেন তখন এই সভা সমিতির ভার বঙ্গবন্ধুর হাতে এসে পড়ে। যদি কোন মুসলিম চাউল না দিত তাহলে বঙ্গবন্ধু তার বাহিনী নিয়ে তার উপর ঝাপিয়ে পড়ত। তার বাড়িতে রাতের বেলায় ইট মারা হত। বঙ্গবন্ধু খেলাধুলা করতেন। একই মাঠে ফুটবল খেলায় নিজের বাবাকেও পরাস্ত করেছেন বহুবার। এভাবেই দুরন্ত কৈশর থেকে যৌবনে পদার্পন করেছেন বঙ্গবন্ধু।

 

  আমি এতক্ষন যা বললাম তা ছিল বঙ্গবন্ধুর শৈশব, কৈশর এবং পারিবারিক পরিচিতি। যদিও এতটুকুন কথা দিয়েই সেই পরিচয় দেয়া সম্ভব নয়। এটা শুধুই ক্ষুদ্র প্রয়াস ।

 

   বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকে শেষ সবারই জানা। কেও জেনেও না জানার ভাব করে, কেও জানার চাইতে বেশি বোঝার ভাব করে, কিন্তু জানে সবাই তাই নতুন করে সেই পরিচয় আর দিবনা। কারন বঙ্গবন্ধু বঙ্গবন্ধুই। এক নাম, এক ইতিহাস এক অতীত, এক বর্তমান , এক ভবিষ্যৎ, এক বাংলাদেশ। তাই তাকে আলাদা করে ভেঙ্গে ভেঙ্গে প্রমান করার কিছুই নেই। ১৯৩৮ সালে হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী এবং শেরে বাংলা একে ফজলুল হকের হাত ধরে রাজনৈতিক জীবনের শুরু আর ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট কিছু ভোখে যাওয়া নরকের কীটের হাত দিয়ে শেষ করা তার সুদির্ঘ ৩৭ বছরের রাজনৈতিক জীবনের অবসান হয়ে যাওয়ার ভেতরেই জন্ম নেয়া ইতিহাসের পুনর্বিন্যাস বা পুনর্নিমান ছাড়া এখন আর নতুন করে করার কিছুই নেই।

 

     বঙ্গবন্ধু তার ৩৭ বছরের রাজনৈতিক জীবনে ২৪ বার মোট তের বছর জেলে কাটিয়েছেন। ১৯৩৮ সালে  আব্দুল মালেক নামে এক বন্ধুকে পুলিশ এবং হিন্দুদের সাথে মারপিট করে দরজা ভেঙ্গে বের করে আনার দায়ে প্রথম মামলায় জড়ান বঙ্গবন্ধু , পুলিশ ধরে নিয়ে কোর্টে হাজির করার পরে কোর্ট দারগা তেকে দেখে বলেন “ মুজিবর খুব ভয়ানক ছেলে। ছোরা মেরেছিল রামপদকে। কিছুতেই জামিন দেওয়া যেতে পারেনা”। বঙ্গবন্ধু কোর্টে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলেন “ বাজে কথা বলবেন না ,ভাল হবে না। যারা দারোগা সাহেবের সামনে বসে ছিলেন দারোগা তাদের বললেন “দেখ ছেলের সাহস।

 

একনজরে আমরা দেখে নিতে পারি বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের জেলখানায় যাওয়ার ইতিহাস।

 

১) ১৯৩৮ সালে ৭ দিন = ১ বার

 

২) ১৯৪৮ সাল : ১১ মার্চ : বাংলা ভাষার দাবিতে ধর্মঘট চলার সময় সচিবালয়ের  সামনে গ্রেফতার হন। = ২ বার

 

৩) ১৯৪৮ সাল : ১১ সেপ্টেম্বর : ফরিদপুরে কর্ডন প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন করার জন্য গ্রেফতার করা হয়। = ১ বার

 

৪) ১৯৪৯ সাল : ১৯ এপ্রিল ঢাকা ইউনিভার্সিটি ভিসির বাসার সামনে থেকে। = ১ বার

 

৫) ১৯৪৯ সাল : সেপ্টেম্বর (তারিখ জানি না) ১৪৪ ধারা ভঙ্গের দায়ে গ্রেপ্তার হন = ১বার

 

৬) ১৯৫৪ সাল : ৩০ মে : করাচি থেকে ঢাকায় আসার পর = ১বার

 

৭) ১৯৫৮ সাল : ১১ অক্টোবর বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয় প্রায় চৌদ্দ মাস জেলখানায় থাকার পর তাকে মুক্তি দিয়ে তাকে পুনরায় জেলগেটেই গ্রেফতার করা হয়।= ২বার

 

৮) ১৯৬২ সাল : ৬ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে জননিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার করা হয় = ১বার

 

৯) ১৯৬৪ সাল :  রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ১৪ দিন আগে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয় =  ১বার

 

১০) ১৯৬৫ সাল : শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও আপত্তিকর বক্তব্য প্রদানের অভিযোগে মামলায় গ্রেফতার করা হয় = ১বার

 

১১) ১৯৬৬ সাল : বঙ্গবন্ধু এ বছরের প্রথম ৩ মাসে ৮ বার গ্রেফতার হন। = ৮ বার

 

১২) ১৯৬৬ সাল : ৮ মে নারায়ণগঞ্জে পাটকল শ্রমিকদের জনসভায় বক্তৃতাশেষে আবার গ্রেফতার = ১বার

 

১৩) ১৯৬৮ সাল : ১৭ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে জেল থেকে মুক্তি দিয়ে আবার জেল গেট থেকে গ্রেফতার করে ঢাকা সেনাসিবাসে আটক রাখা হয় = ২বার

 

১৪) ১৯৭১ সাল : ২৫ মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধুকে ধানমন্ডির ৩২ নং বাসভবন থেকে গ্রেফতার হন = ১বার ।

 

মোট ২৪ বার। যার সময়কাল প্রায় ১৩  বছর। উনার পাঁচ সন্তানের কারো জন্মই উনি দেখতে পারেন নাই। প্রতিবারই জেলে বসে শুনতে হয়েছে তার সন্তান জন্মের খবর। গতানুগতিক ভঙ্গিমায় না বলে একটু এক কথায় প্রকাশের মত করে বলি ১১ নম্বর টা একটু লক্ষ করে দেখুন ১৯৬৬ তে ৩ মাসে আটবার গ্রেপ্তার হন তিনি। ভাবা যায়!!!!!! একজন মানুষ তিনমাসে আটবার গ্রেপ্তার হচ্ছেন আর সেই নেতার সাথে  খুনি, অর্থ লুট, দেশ লুট, পাট লুট, ঘাট লুটেরাদের সাথে তুলনা করার স্পর্ধাও এই দেশের মানুষ রাখে। শুধু অবাকই না বিস্মিত হয়ে হাসি।

 

  নেলসন রোলিহ্লাহ্লা ম্যান্ডেলা, নেলসন ম্যান্ডেলা। সবাই চিনে এককথায় এই মানুষটাকে ??? ম্যান্ডেলা  আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের  সশস্ত্র সংগঠন উমখন্তো উই সিযওয়ের নেতা হিসাবে বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। ১৯৬২ সালে তাঁকে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী সরকার গ্রেপ্তার করে ও অন্তর্ঘাতসহ নানা অপরাধের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। ম্যান্ডেলা ২৭ বছর কারাবাস করেন।

 

  মুহাম্মদ আবদেল রহমান আব্দেল রউফ আরাফাত আল-কুদওয়া আল-হুসেইনী। প্রচলিত নাম ইয়াসির আরাফাত, ছিলেন একজন ফিলিস্তিনী নেতা। প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাজেশন বা পিএলওর চেয়ারম্যান হিসাবে আরাফাত ইসরায়েলী দখলদারির বিরুদ্ধে সারাজীবন সংগ্রাম করেন। তিনি প্যালেস্টিনিয়ান অথরিটির প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। জীবনের একটা দীর্ঘ সময় আরাফাত ধর্মনিরপেক্ষ ফাতাহ দলের নেতৃত্ব দেন। দল-মত-নির্বিশেষে ফিলিস্তিনী জনগোষ্ঠীর অধিকাংশ মানুষ আরাফাতকে বীর মুক্তিযোদ্ধা  এবং ফিলিস্তিনীদের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতীক হিসাবে সম্মান করে থাকে।

 

  সুভাষচন্দ্র বসু , ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক কিংবদন্তি নেতা। সুভাষচন্দ্র  ফরওয়ার্ড ব্লক  নামক একটি রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করে  ব্রিটিশ শাসন থেকে ভারতের পূর্ণ ও সত্বর স্বাধীনতার দাবি জানাতে থাকেন। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ তাঁকে এগারো বার কারারুদ্ধ করেছিল। তাঁর বিখ্যাত উক্তি "তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেবো।" দলমত নির্বিশেষে তিনি ভারতবর্ষের নেতাজি নামে পরিচিত।

 

মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী , বা মহাত্মা গান্ধী, অন্যতম প্রধান ভারতীয় রাজনীতিবিদ, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অগ্রগামী ব্যক্তিদের একজন এবং প্রভাভশালী আধ্যাত্মিক নেতা। তিনি ছিলেন সত্যাগ্রহ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা। এর মাধ্যমে স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে জনসাধারণের অবাধ্যতা ঘোষিত হয়েছিল। এ আন্দোলন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল অহিংস মতবাদ বা দর্শনের উপর এবং এটি ছিল ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম চালিকা শক্তি, সারা বিশ্বে মানুষের স্বাধীনতা এবং অধিকার পাওয়ার আন্দোলনের অন্যতম অনুপ্রেরণা।

 

গান্ধী ভারতে এবং বিশ্ব জুড়ে মহাত্মা (মহান আত্মা)এবং বাপু (বাবা) নামে পরিচিত। ভারত সরকারীভাবে তাঁর সম্মানার্থে তাকে ভারতের জাতির জনক  হিসেবে ঘোষণা করেছে । ২রা অক্টোবর  তাঁর জন্মদিন ভারতে গান্ধী জয়ন্তী  হিসেবে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় ছুটির দিন হিসেবে পালিত হয়। ২০০৭  সালের ১৫ই জুন জাতিসংঘের সাধারণ সভায় ২রা অক্টোবর –কে আন্তর্জাতিক অহিংস দিবস হিসেবে ঘোষণা করা। জাতিসংঘের সকল সদস্য দেশ এ দিবস পালনে সম্মতি জ্ঞাপন করে।

 

এবার অনেকের আত্মশুদ্ধি বা আত্মতৃপ্তির জন্য একটা উদাহরন দেই।

 

মোহাম্মাদ আলী  জিন্নাহ ছিলেন ছিলেন একজন আইনজীবী, রাজনীতিবিদ ও পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা। ১৯১৩ সাল থেকে শুরু করে ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তানের স্বাধীনতা পর্যন্ত জিন্নাহ নিখিল ভারত মুসলিম লীগের নেতা ছিলেন। স্বাধীনতার পর তিনি পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল হন এবং আমৃত্যু এই পদে বহাল থাকেন। পাকিস্তানে তাকে কায়েদে আজম (মহান নেতা) ও বাবায়ে কওম(জাতির পিতা) হিসেবে সম্মান করা হয়। পাকিস্থানেও জাতির পিতা মানা হয়।

 

    আমি এতক্ষন ধরে বিশ্বের যে নেতৃত্তের তালিকা দিলাম এখানে একমাত্র বাংলাদেশের বঙ্গবন্ধু ছাড়া অন্য কারো ক্ষমতা কি আছে এই তালিকায় নিজের অবস্থান করে নেওয়ার? নেলসন ম্যান্ডেলা একটানা ২৭ বছর জেল খেটেছেন আর বঙ্গবন্ধু ১৩ বছর ধরে ভেঙ্গে ভেঙ্গে ২৪ বার। তাইতো কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল ক্যাস্ট্রোর উক্তি সবার আগে মনে পড়বে। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব, তার সিদ্ধান্ত,অবিচলতা নিয়ে বলতে গিয়ে ক্যাস্ট্রো বলেন,‘আমি হিমালয় দেখিনি, কিন্তু শেখ মুজিবকে দেখেছি। ব্যক্তিত্ব ও সাহসিকতায় তিনি হিমালয়ের মতো। যদিও ফিদেল ক্যাস্ট্রো নিজেও এই তালিকায় আসার মতই একজন।

 

 এখন যদি কেউ বা কেউগন রাতের আধারে সৈন্য লেলিয়া অস্ত্র ধরে ক্ষমতা দখল করিয়া বা কারো পক্ষ থেকে কোন ঘোষণা পত্র পাঠ করিয়া নিজেরাই নিজেদের এই তালিকায় সমাসীন করতে চাহিয়া বসিয়া থাকেন তাতে ইতিহাসে তাদের অবস্থান  কি খুব উঁচু আসনে যাবে? নাকি উঁচু আসনে নেয়ার নিতান্তই এক ছেলেখেলা হয়ে থাকবে।যা শুধু জাতীকে বিভ্রান্ত করা ছাড়া আর কিছুই দিবেনা।

 

  এখন তাদের বলতে গেলে বলবে তাদের নামো ইতিহাসে আছে । আমার উত্তর হিটলারের নাম ও ইতিহাসে আছে , সেও রাজা ছিল, মীর জাফরের নাম ও ইতিহাসে আছে ,সেও ক্ষমতায় এসেছিল কিন্ত পার্থক্য হচ্ছে ইতিহাসের অবস্থান নিয়ে। আবার বাংলাদেশে সন্তু লারমা নামেও একজন রাজা আছেন, টানা বিশ বছর সকল সরকারের সুবিধা ভোগ করিয়া তিনিও তার স্বায়ত্ত শাসন দাবী করিতেছেন। এরাও ইতিহাস বৈকি।

 

কতটা নির্লজ্জ আর অকৃতজ্ঞ হলে এই তালিকায় থাকা বাংলার জাতির জনকের মৃত্যুদিনকে জন্মদিন সাজিয়ে পালন করা হয়ে থাকে তাও হয়ত একদিন ইতিহাসের এই নিচের তালিকায় উঠে আসবে। আপনারাও ইতিহাস হবেন, দাউ দাউ করে ইতিহাস জ্বালানোর জ্বলন্ত সাক্ষী আপনারাই হবেন।

 

  ১৫ আগস্ট থেকে ২৬ মার্চ প্রতিটা দিবস ঘিরেই এখন চলে এক একটা রম্য কাহিনী।কেউ এক জীবনে মৃত্যু ছাড়াই পাঁচবার পুনরজনম গ্রহন করে বসে আছেন আবার কেউ  নিজেও ঘোষণায়  নিজেকে ঘোষক বলে দাবী করেন নাই  অথছ তাকে ঘোষোক বানানোর ছেবলামি করার এক বিরল দৃষ্টান্ত দেখা যায়। যদিও  আমি এই বিষয়ে কিছুই বলব না। কারন আমি মনে করি এই আলোচনাটা কোন বিতর্কে আসার যোগ্যতাই রাখেনা। শুধু কিছু প্রমান দাখিল করছি।

 

২৭ মার্চ জিয়া স্বাধীনতার ঘোষনা দেবার আগে ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু নিজে একবার, এবং এর পরে ২৬ মার্চ বিকাল ও রাতে আওয়ামীলীগ নেতা এম এ হান্নান আরো দুবার বঙ্গবন্ধুর পক্ষ হতে স্বাধীনতার ঘোষনা দেন সেই হিসাবে জিয়াউর রহমানের আগে হান্নান সাহেব স্বাধীনতার ঘোষনা পত্র পাঠ করেছেন। এর আগে ৭ই মার্চ বা অন্যান্য দিন বাদই রাখলাম। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে যে বিতর্ক তার ঐতিহাসিক পর্যালোচনা করলে দেখা যায় জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষনা করেন ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ সন্ধায়। কিন্তু ২৬ মার্চ থেকে ২৭ মার্চ সকাল পর্যন্ত নিউইয়র্কের “লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস ম্যাগাজিন” সহ বিশ্বের অন্যন্য ম্যাগাজিন গুলিতে প্রচার করা হয় (“শেখ মুজিবুর রহমান শুক্রবার পূর্ব পাকিস্তানের জন্য স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। ইসলামী জাতিটির (পাকিস্তান) দুই অংশের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে চলতে থাকা অসন্তোষ গৃহযুদ্ধে রূপ নেওয়ায় তিনি এ ঘোষণা দেন। প্রতিবেদনে আরো বলা হয় ঘোষনাতে উল্লেখ করা হয়। ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য জনগণ বীরের মতো শত্রুর সঙ্গে লড়াই করছে। যেকোনো মূল্যে দেশের প্রতিটি কোনায় শত্রু বাহিনীকে প্রতিরোধের জন্য বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। আল্লাহ আপনাদের সহায় হোন এবং শত্রুর কাছ থেকে স্বাধীনতার জন্য লড়াইয়ে তিনি আপনাদের সাহায্য করবেন। জয় বাংলা”।)

 

টাইমস ম্যাগাজিন ছাড়া বিশ্বের অন্যান্য যেসব পত্রিকা বা ম্যাগাজিনে ২৬ থেকে ২৭ মার্চ সকাল অবদি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষনার দলীল প্রচার করা হয় সেগুলি হচ্ছে ভারতের দ্য স্টেটসম্যান এবং দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া; আর্জেন্টিনার বুয়েন্স এয়ার্স হেরাল্ড; অস্ট্রেলিয়ার দ্য এজ এবং দ্য সিডনি মর্নিং হেরাল্ড;মিয়ানমারের দ্য গার্ডিয়ান; কানাডার দ্য গ্লোব অ্যান্ড মেইল; হংকংয়ের দ্য হংকং স্ট্যান্ডার্ড; ইন্দোনেশিয়ার দ্য জাকার্তা টাইমস; জাপানের আসাহি ইভিনিং নিউজ;নেপালের দ্য রাইজিং নেপাল; ফিলিপাইনের ম্যানিলা টাইমস; সিঙ্গাপুরের দ্য স্ট্রেইটস টাইমস; দক্ষিণ আফ্রিকার দ্য প্রিটোরিয়া নিউজ; থাইল্যান্ডের দ্য ব্যাংকক পোস্ট; যুক্তরাজ্যের দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ, দ্য গার্ডিয়ান, দ্য টাইমস অব লন্ডন; যুক্তরাষ্ট্রের বাল্টিমোর সান, দ্য বোস্টন গ্লোব, শিকাগো টাইমস, ক্রিস্টিয়ান সায়েন্স মনিটর, লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, দ্য ফিলাডেলফিয়া ইনকুরিয়ার, সানফ্রান্সিসকো ক্রোনিকেল এবং দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।এছাড়াও নয়াদিল্লি থেকে প্রকাশিত দ্য স্টেটসম্যান, কলকাতা থেকে প্রকাশিত দ্য স্টেটসম্যান,মুম্বাই থেকে প্রকাশিত দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া, উল্লেখ যোগ্য। যেসব ভাই বৃন্দ স্বাধীনতার ঘোষনা নিয়ে হাস্যকর মুখরোচক গল্প তৈরি করেন তারা কি একজন ও এইরকম একটা ঐতিহাসিক দলীল প্রমান ও নিয়ে আসতে পারবেন যেখানে একবারের জন্যেও উল্লেখ আছে যে মেজর জিয়া স্বাধীনতার ঘোষক?



 

  এবার আসি যে স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে এত বিতর্ক আসলে সেই ঘোষনায় জিয়াউর রহমান নিজে কি বলেছিলেন;;;;;;;;

 

I Major Zia, Provisional Commander in Chief of the Bangladesh Liberation Army, hereby proclaims, on behalf of Sheikh Mujibur Rahman, the independence of Bangladesh,I also declare, we have already framed a sovereign, legal Government under Sheikh Mujibur Rahman, which pledges to function as per law and the constitution. The new democratic Government is committed to a policy of non alignment in international relations. It will seek friendship with all nations and strive for international peace. I appeal to all Government to mobilige public opinion in their respective countries against the brutal genocide in Bangladesh.The Government under Sheikh Mujibur Rahman is sovereign legal Government of Bangladesh and is entitled to recognition from all democratic nations of the world.

 

অনুবাদঃ আমি মেজর জিয়া, বাংলাদেশ লিবারেশন আর্মির প্রাদেশিক কমাণ্ডার-ইন-চিফ, শেখ মুজিবর রহমানের পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি। আমি আরো ঘোষণা করছি যে, আমরা শেখ মুজিবর রহমানের অধীনে একটি সার্বভৌম ও আইনসিদ্ধ সরকার গঠন করেছি যা আইন ও সংবিধান অনুযায়ী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমাদের সরকার জোট-নিরপেক্ষ নীতি মেনে চলতে বদ্ধপরিকর। এ রাষ্ট্র সকল জাতীর সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখবে এবং বিশ্বশান্তির জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। আমি সকল দেশের সরকারকে তাদের নিজ নিজ দেশে বাংলাদেশের নৃশংস গণহত্যার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছি। শেখ মুজিবর রহমানের সরকার একটি সার্বভৌম ও আইনসম্মত সরকার এৰং বিশ্বের সকল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের স্বীকৃতি পাবার দাবিদার।

 

ইউটিউব সহ যেকোন মাধ্যমে সার্চ করলেই এই অরিজিন ভাষন টা হুবহু পাওয়া যাবে। যাকে অত্যন্ত নির্লজ্জ কারচুপির মাধ্যমে এ্যাডিট  করে এখন একটি রাজনৈতিক দল প্রচার করেলেও সত্যের জোর যে অনেক বেশি এটা আজো তারা অনুভব করতে পারে নাই। কিছুদিন আগে ইউটিউবে কর্নেল ওলির একটা সাক্ষাতকার দেখেছিলাম, যেখানে সূদুর আমেরিকা থেকে একটা মেয়ে যার কণ্ঠস্বর শুনে মনে হয়েছে আমার বয়সিই হয়ত হবেন, উনি কর্নেল ওলি কে জিজ্ঞাস করেছিলেন স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র পাঠ করা আর স্বাধীনতার ঘোষক হওয়া এক কিনা??? আমি অবাক হয়ে শুনেছিলাম মেয়েটার প্রশ্নগুলি যার কোন সদুত্তর ওলি সাহেব দিতে পারেন নাই। আমি ভাবছিলাম সূদর আমেরিকাতে থেকেও সঠিক ইতিহাস কিভাবে বলে যাচ্ছে এই মেয়েটি আর আমাদের দেশ মাতৃকার সেবায় নিয়জিত একজন বীর সৈনিক একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা কিভাবে নির্লজ্জের মত ইতিহাসকে বিকৃত করার নোংরা খেলায় মেতে অনর্গল মিথ্যাচার করে যাচ্ছেন। মেয়েটি ওলি সাহেবকে  বলেছিল আর মিথ্যাচার করবেন না , ইতিহাসকে বিকৃত খেলায় মাতবেন না ,আমরা নতুন প্রজন্ম ঘুমিয়ে নেই আমাদের হাতের কাছেই এখন গুগল ,উইকিপিডিয়া থাকে। যেখানে টাচ করলেই সব সত্য বেরিয়ে আসে।

 

  আমিও একই কথা বলছি। স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রায় ১৪ বছর পরে জন্ম নিয়েছি। তাও আজো স্বাধীনতার আসল ইতিহাস অর্জনের সাক্ষরই রেখে চলেছি। সুতরাং আর নোংরামো করে নিজেদেরকে ইতিহাসের কালো অধ্যায়ে আনবেন না। যদিও এভাবে আপনাদের বলে লাভ নেই। কারন ঐ যে শুরুতে বলেছিলাম কেউ জেনেও না জানার ভান করে;;;; সত্য আপনাদের ও জানা। এখন শুধু সত্যর উপরে মিথ্যা লেপন করে নিজেদের নিয়ে নতুন একটি ইতিহাস তৈরির খেলায় মত্ত। চিন্তা করবেন না আপনাদের এই ইতিহাস লেখার দায়িত্ব আমরাই নিলাম। আপনারা যেমন  শত চেষ্টা করেও আমাদের থেকে অরিজিনকে লুকাতে পারেন নাই আমরাও আমাদের পরবর্তি প্রজন্মকে সেই সত্য জানার রাস্তা পরিস্কার করে দিলাম।

 

   জানিনা হয়ত ভবিষ্যতে আজ যেটুক দিলাম এটুকুও ইতিহাস থেকে মোছার চেষ্টা করা হবে। তাই একটু দির্ঘায়িত করেই কিছু প্রমান রেখে দিলাম।

 

শেষটাও শুরু দিয়ে করি----- “লিখতে যে পারি না; আর কি এমন করেছি যা লেখা যায় ! আমার জীবনের ঘটনাগুলি জেনে জনসাধারণের কি কোন কাজে লাগবে? কিছুই তো করতে পারলাম না । শুধু এইটুকু বলতে পারি, নীতি ও আদর্শের জন্য সামান্য একটু ত্যাগ স্বীকার করতে চেষ্টা করেছি।

 

এমন সাবলীল স্বীকৃতি যে নেতা দিতে পারে তাকে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি করতে আমাদের প্রজন্ম যেমন পিছু হটিনি ঠিক একই ভাবে আজ থেকে হাজার বছর পরের প্রজন্ম ও একই কাজ করবে, তারাও পিছু হটবেনা। এখনো বঙ্গবন্ধুই বাঙ্গালী জাতির জনক,ধারক,বাহক। তখনো একই থাকবে। আর আপনারা ইতিহাসকে কেটে ছেটে কোনরকম একটা জায়গা করার চেষ্টা করতে পারবেন কিন্তু হয়ত তখনকার প্রজন্ম সেই স্তর টা ইতিহাসের নিচের দিকেই কালো বর্ডারে ঘেরা একটা বিশেষ জায়গায় করে রাখবে।

 

যদিও আপনারা ওখানে থেকেও মহান হতে দ্বিধা করবেন না।

 

আর আজ আমরা বলছি সেদিন ওরা বলবে ( পরবর্তি প্রজন্ম)

 

আজ থেকে হাজার বছর পরেও বঙ্গবন্ধুই শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT