Main Menu

ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা

আনিসুর রহমান রিতু : ২১শে আগস্ট গ্রেনেট হামলার মূল লক্ষ্য ছিল তৎকালীন বিরোধী দলের নেতা শেখ হাসিনাকে হত্যা করা এবং আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের হত্যা করে আওয়ামীলীগকে নেতাশূন্য করা৷ খুনিরা এটাও জানতেন যদি কোনো কারণে তাদের এই মিশন ফেইল করে তবে চড়া মূল্য দিতে হতে পারে৷ সেকারণেই বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করা হয়েছিল এই হত্যা মিশনে৷ 
খুনিদের একাধিক বৈঠক, হামলার ব্লুপ্রিন্ট তৈরী, এলাকা রেখি করা, কুখ্যাত সব সন্ত্রাসীদের একত্রিত করা এবং গ্রেনেট সরবারহ করে হামলার চূড়ান্ত প্রস্তুতির মহড়া দেওয়া এটাই প্রমান করে৷
শেখ হাসিনাকে হত্যা করা শতভাগ নিশ্চিত করতে তারা চারটি বিশেষ স্বার্থের বিশেষ গোষ্ঠীর সমন্বয় ঘটিয়েছিল৷
গোষ্ঠী ১. বঙ্গবন্ধুর খুনিদের প্রতিনিধি 
গোষ্ঠী ২. যুদ্ধাপরাধীদের প্রতিনিধি
গোষ্ঠী ৩. উগ্র জঙ্গিদের প্রতিনিধি
গোষ্ঠী ৪. সরকারি মন্ত্রী ও পৃষ্ঠপোষকদের প্রতিনিধি 

এখানে সন্ত্রাসের এক সুনিপুন বাস্তবায়নের সবধরণের চেষ্টাই মাথায় রেখেছিলো খুনিরা৷ যেখানে শেখ হাসিনার ও দেশের সকল স্তরের শত্রুদের ঐক্যবদ্ধ করা হয়েছিল৷
 প্রথম গোষ্ঠীর স্বার্থ- শেখ হাসিনাকে হত্যা করে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফাঁসির হাত থেকে রক্ষা করা৷
দ্বিতীয় গোষ্ঠীর স্বার্থ- শেখ হাসিনাকে হত্যা করে দেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বিনষ্ট করা৷
তৃতীয় গোষ্ঠীর স্বার্থ- শেখ হাসিনাকে হত্যা করে দেশকে উগ্র জঙ্গিবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করা৷
চতুর্থ গোষ্ঠীর স্বার্থ- শেখ হাসিনা ও দলের নীতি নির্ধারকদের হত্যা করে আওয়ামীলীগকে নিশ্চিহ্ন করা এবং ক্ষমতা চির স্থায়ী করা৷
পৃথিবীর কোনো হত্যা মিশনেই এতগুলো ইন্টারেস্টেড পার্টি একত্রিত করা সম্ভব হয়নি৷ কারণ একাধিক ইন্টারেস্টেড পার্টির কাছে গেম প্ল্যান আলোচনা করলে সাধারণত প্ল্যান ফাঁস হয়ে যায়৷ কিন্তু ২১শে আগস্ট গ্রেনেট হামলার ইন্টারেস্টেড পার্টিদের স্বার্থ এক ও অভিন্ন থাকায় তারা সেই ঝুঁকিটা নিতে কোনো দ্বিধা করেনি৷ হত্যার পরিকল্পনাকারীদের কাছে দেশ, জাতি, সরকার, রাষ্ট্র, সভ্যতা, মানবতা এগুলার কোনো মূল্যবোধ ছিলোনা৷ তাদের শুধু একটাই লক্ষ্য শেখ হাসিনাকে হত্যা করা৷ কিন্তু একটা বিষয় তাদের মাথায় ছিলোনা যে প্রথম নিক্ষিপ্ত গ্রেনেট থেকে যদি শেখ হাসিনা বেঁচে যায় তবে তাকে হত্যা করা যাবেনা৷ কারণ বিশ্বে শেখ হাসিনাই একমাত্র রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যাকে রক্ষা করতে হাজারো নেতা কর্মী জীবন দিতে পারে৷ ঠিক তাই হলো৷ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ মানব ঢাল তৈরী করে শেখ হাসিনাকে রক্ষা করলো৷
১৯৮১ সালে আওয়ামীলীগের সভানেত্রী হয়ে শেখ হাসিনা যখন দেশে আসলেন তখন বিমানবন্দরে লক্ষ্য জনতার স্লোগান ছিল শেখ হাসিনার ভয় নাই আমরা আছি লাখো ভাই৷ তখন বিষয়টি নিতান্তই স্লোগান মনে হয়েছিল৷ কিন্তু বিষয়টিযে শুধু স্লোগান ছিলোনা তার প্রমান তার লাখো ভাইয়েরা ২১শে আগস্ট প্রমান দিয়েছিলো৷ যাই হোক আবার মূল বিষয়ে আসি৷ শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্রের যে একটা বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে সেটা ষড়যন্ত্রকারীদের মাথায় ছিলোনা৷ আর এই প্রতিক্রিয়া হচ্ছে যদি শেখ হাসিনাকে হত্যা করার মিশন ব্যর্থ হয় তবে বঙ্গবন্ধুর আত্ম স্বীকৃত খুনিদের, যুদ্ধাপরাধীদের, উগ্র জঙ্গিবাদীদের এবং বিএনপির যেসকল নেতৃবৃন্দ এই মিশনের সাথে জড়িত তাদের কেউ ছাড় পাবেনা৷
মূলত ২১শে আগস্ট রাতেই শেখ হাসিনা তার করণীয় নির্ধারণ করে ফেলেন৷ বাকি শুধু অপেক্ষার পালা৷ ওই সময়ে তার আকাশ চুম্বি জনপ্রিয়তার কারণে তিনি দেশ থেকে এইসব জঞ্জাল পরিষ্কার করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেন৷ ক্ষমতায় যাবার অপেক্ষা মাত্র৷ কারণ ২১শে আগস্টই ছিল টার্নিং পয়েন্ট৷
২০০৮এর নর্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা তাকে সুযোগ করে দেয় তার কাঙ্খিত লক্ষে এগিয়ে যেতে৷ প্রথমেই তিনি জাতির জনকের আত্ম স্বীকৃত খুনিদের ফাঁসিতে ঝোলানোর কাজ হাতে নেন৷ বাঙালি জাতির বহুদিনের আকাঙ্খা বাস্তবায়নে তিনি দণ্ডপ্রাপ্ত এবং বন্দিথাকা খুনিদের ফাঁসির রায় কার্যকর করেন৷ এর পর নির্বাচনের ইস্তেহার অনুযায়ী শুরু করেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা৷ যারা একসময় দম্ভ করে যুদ্ধাপরাধের ব্যাপারে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করেছিল একের পর এক তারা গ্রেফতার হতে শুরু করলো৷ শুরুর দিকে যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষের এবং কিছু বামঘেঁষা সুশীলরা বলা শুরুে করলো গ্রেফতার হলে কি হবে বিচার শুরু হবেনা৷ বিচার শুরু হয়ে গেলে তারা বলা শুরু করলো বিচার শুরু হলেও রায় হবেনা৷ রায় হওয়া শুরু হলে বলতে থাকলেন রায় কখনো কার্যকর হবেনা৷ কিন্তু সকল মিথ্যেকে পিছনে ফেলে একের পর এক রায় কার্যকর হলো৷
এরপর শুরু হলো জঙ্গিদমন শেখ হাসিনার জঙ্গি দমনে জিরো টলারেন্স বিশ্বের কাছে অবাক বিস্ময় হিসেবে ধরা দিলো৷ একের পর এক সফল অভিযানে জঙ্গি দমন করলেন৷ আর যেসকল জঙ্গিনেতারা ফাঁসির দন্ডে দণ্ডিত ছিল তাদের ফাঁসিতে ঝোলানো হলো৷
আর বাকি রইলো তৎকালীন ক্ষমতায় থাকা বিএনপি৷ তবে বিএনপির ব্যাপারে শেখ হাসিনার তেমন কোনো পরিকল্পনার প্রয়োজন পড়েনি৷ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে করা মামলায় খালেদা জিয়া জেলে৷ তারেক জিয়া নির্বাসনে৷ ২১শে আগস্টের মূল হোতারা এমামলা ছাড়াই বিভিন্ন অপকর্মের মাশুল দিতে জেলেই আছেন৷ যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রত্যক্ষ মদদে জর্জ মিয়া নাটক মঞ্চায়িত হয়েছিল সেই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় মৃত্যুদণ্ডের প্রহর গুনছেন৷ ২১শে আগস্ট মামলায় যারা জড়িত অথবা জর্জ মিয়া নাটকের যারা রূপকার তারা কেউ জেলে অথবা পালিয়ে ফেরারি জীবন যাপন করছে৷
জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে যে হত্যা আর ষড়যন্ত্রের রাজনীতির ধারা চালু করা হয়েছিল তারই ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা৷
২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত সকলের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা৷


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT