Main Menu

উচ্চশিক্ষা নিতে কেন বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন মেধাবীরা

প্রতি বছরই উচ্চশিক্ষা নিতে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন মেধাবীরা। তাদের শিক্ষা ও আনুষঙ্গিক ব্যয় হিসেবে দেশ থেকে মোটা অংকের অর্থ পাঠাতে হয় অভিভাবকদের। অথচ এদের প্রায় সবাই পড়ালেখা শেষ করে ক্যারিয়ার গড়েন প্রবাসে। এভাবেই বছরের পর বছর দেশ থেকে নীরবে ‘মেধা পাচার’ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কেন এমনটা হচ্ছে?

দেশে চাকরির অনিশ্চয়তা, শিক্ষাঙ্গনে আধিপত্যের রাজনীতি, বিদ্যাপীঠে অনুকূল পরিবেশ না থাকা, লেখাপড়ার বৈশ্বিক মানের ঘাটতি। মোটাদাগে এ চারটি কারণকেই দায়ী করছেন বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রতি আগ্রহী শিক্ষার্থীরা। বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিমেলায় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের সরব উপস্থিতি এবং তাদের প্রতিক্রিয়ায় ফুটে উঠেছে দেশের উচ্চশিক্ষায় আস্থাহীনতাও।

এ প্রসঙ্গে শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, উচ্চশিক্ষা উন্মুক্ত। যার যেখানে সামর্থ্য সে সেখানেই যাবে। বিদেশে যারা লেখাপড়া করতে যান, এরা অনেকেই আর দেশে ফেরেন না। কর্মজীবন শুরু হয়ে গেলে তারা ওইসব দেশেই স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। এভাবে অনেক মেধা হারিয়ে যায় দেশ থেকে। এ জন্য আমাদের দেশের চাকরির সঙ্গে শিক্ষার ফারাক কমিয়ে আনতে হবে।

প্রতি বছরই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য দেশীয় এজেন্সির মাধ্যমে আয়োজন করা হয়Ñ ইউকে, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ইন্ডিয়া, চায়না ও মালয়েশিয়া ‘শিক্ষা মেলা’র। এসব মেলায় স্কলারশিপ, ভর্তি ফি মওকুফ, পার্টটাইম

জব ইত্যাদির লোভনীয় অফার দেওয়া হয় ভিনদেশী বিশ্ববিদ্যালগুলো থেকে। ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে এসব মেলায়। বেশির ভাগ উচ্চ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানরা বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন লেখাপড়ার চেয়ে চাকরির নিশ্চয়তার জন্য।

গত ১০ আগস্ট রাজধানীর হোটেল আমারি-তে অনুষ্ঠিত হয় অস্ট্রেলিয়ান শিক্ষা মেলা। এতে অস্ট্রেলিয়ান ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয়, কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়, ডেকিন বিশ্ববিদ্যালয়, এডিথ কোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়, গ্রিফিথ বিশ্ববিদ্যালয়, ম্যাককারি বিশ্ববিদ্যালয়, মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ফি ছাড়, কোনোটিতে স্কলারশিপের সুযোগ, আবার খ-কালীন চাকরির সুযোগসহ নানা সুবিধার ঘোষণা দেওয়া হয় মেলায় আগত ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের জন্য। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরাও খোঁজ নিচ্ছেন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন বিষয়ে লেখাপড়া করবে তাদের সন্তান।

মেলায় ভর্তি ইচ্ছুক শিক্ষার্থী শবনম মুসতারি চৈতি জানান, দেশের অনেক ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার পরও বিদেশে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর ডিগ্রির জন্য গেলে এসব সার্টিফিকেট তারা সাদরে গ্রহণ করে না। তার ভাইয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, দেশে এলএলবি সম্পন্ন করার পরও লন্ডনে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফের তাকে ফাউন্ডেশন কোর্স সম্পন্ন করতে হয়। তা হলে এখানে লেখাপড়ার চেয়ে ওই দেশে লেখাপড়া করাই ভালো।

শিক্ষার্থী শেখ তৈমুর বলেন, বাংলাদেশে লেখাপড়া করেও বেকার থাকতে হয়। এখানে চাকরির নিশ্চয়তা নেই। আরেক শিক্ষার্থী মারজান জানান, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়লে বড় ভাইদের সঙ্গে রাজনীতির সভা-সমাবেশ করতে হয়। এগুলো তার পছন্দ নয়। অভিভাবক রাখী আনসারী বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালগুলোয় কাড়ি-কাড়ি টাকা-পয়সা নিলেও লেখাপড়ার মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ছেলেমেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে বিদেশে পড়ালেখার জন্য খোঁজখবর নিতে এসেছি। আরেক অভিভাবক খন্দকার শাহজাহানের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো রাজনীতির চর্চাকেন্দ্র। এখানে সন্তানদের ভালো লেখাপড়া তো দূরের কথা, জীবনের নিরাপত্তাই নেই। তুচ্ছ ঘটনায় ক্যাম্পাস বন্ধ। বিদেশে এসব নেই, লেখাপড়ার পাশাপাশি চাকরির সুযোগ পেলে আরও ভালো।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, এখন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রসারের কারণে দেশেও উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ বেড়েছে। ইউজিসির এক হিসাবে দেখা যায়, এর ফলে এক বছরে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি, আবাসন খরচসহ অন্যান্য ব্যয়ের হিসাব ধরে প্রায় ২৫০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হয়।

অধ্যাপক আবদুল মান্নান আরও বলেন, তার পরও দেশীয় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আস্থা অর্জন করতে হবে। আর যারা যাচ্ছে তাদের বলব, উচ্চশিক্ষা গ্রহণ তথা জ্ঞান অর্জনের পর দেশে ফিরে জাতীয় উন্নয়নে তাদের মেধা কাজে লাগাতে।

উৎসঃ   আমাদের সময়


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT