Main Menu

ঈদ উল-আজহার যে পাঁচটি বিষয় প্রত্যেক মুসলিমের জেনে রাখা উচিত

ইন্ডিয়ানা পলিস: এবার বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় ১.৮ বিলিয়ন মুসলিম স্বতস্ফূর্তভাবে ঈদ উল-আজহা উদযাপন করছে। আর এ দিনটি ইসলাম ধর্মের একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ দিন।

২০১৭ সালের এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩.৫ মিলিয়ন মুসলিমের বসবাস এবং তারাও বিশ্বের অন্যান্য মুসলিমদের সাথে একাত্ততা প্রকাশ করে ঈদ উল-আজহা উদযাপন করছেন।

সংবাদ সংস্থা নিউজ উইক মুসলিমদের এই গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করতে দেশটির ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ইব্রাহীমের একটি সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে।

 

ড. ইব্রাহীমের সাক্ষাৎকারটি ভাষান্তরে  পাঠকদের জন্য নিম্নে তুলে ধরা হলোঃ

১। ঈদ উল-আজহা মূলত কখন উদযাপন করা হয়?

ড. ইব্রাহীম: বিভিন্ন বছরে বিভিন্ন সময়ে মুসলমানদের এই গুরুত্বপূর্ণ উৎসবটি উদযাপন করা হয়। দিনটি মূলত ইসলামিক চন্দ্র পঞ্জিকা অনুসারে উদযাপন করা হয়। এই দিনটি ইসলামিক পঞ্জিকার সর্বশেষ মাস এবং হজের মাসের দশমতম দিনে উদযাপন করা হয়। এটা আবার সময়ের পার্থক্য অনুসারে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে একদিন আগে পরে উদযাপিত হয়।

ইসলামী ছুটির দিনগুলো বিশ্বের সকল মুসলিমরা সাধারণত একসাথে উদযাপন করে কিন্তু বিভিন্ন মতের অনুসারীদের মধ্যে এই দিনটি উদযাপনে কিছুটা তারতম্য দেখা যায়। তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন যে, কিছু মুসলিম চলতি বছরের আগস্ট মাসের ২১ তারিখ দিনটি উদযাপন করছে এবং অন্যেরা ২২ আগস্ট অর্থাৎ বুধবারে দিনে উদযাপন করছে। এভাবে পর্যায়ক্রমে চলতি মাসের ২৬ তারিখ পর্যন্ত এই উৎসব উদযাপিত হবে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তরে। এটি মূলত চাঁদ দেখার ‍উপর নির্ভর করে। সময়ের পার্থক্যের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আগে-পরে চাঁদ দেখা যায়।

২। ঈদ উল-আজহা মূলত কি?

ড. ইব্রাহীম: ‘ঈদ উল-আজহা হচ্ছে মূলত হজ করার সময় হাজিদের প্রার্থনা করার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ এবং হ্জ হচ্ছে ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি। সামর্থবান সকল মুসলিমকে হজ্ অবশ্যই পালন করতে হয়।’- ইব্রাহীম এমনটি জানান।

হজের প্রচলন হয়েছে মূলত আল্লাহর নবী ইব্রাহীম (আঃ) এর পদাঙ্ক অনুসরণ করে এবং নবী ইব্রাহীম (আঃ) কে শুধুমাত্র্ মুসলিমরা নয় ইহুদী এবং খ্রিস্টানরাও সম্মান দেখায়। নবী ইব্রাহীম (আঃ) এর স্ত্রী হাজেরা (রাঃ) এবং তার পুত্র্ ইসমাঈল (আঃ) এর পবিত্র্ মক্কা নগরীতে নির্বাসিত জীবনযাপন করার সময় তাদের চরম দুর্দশার সময়ে নবী পত্নী হাজেরার পানির জন্য এদিক সেদিক ছোটাছুটির ঐতিহাকি ঘটনাকে স্মরণ করে মূলত হজ পালন করা হয়।

‘ঈদ উল-আজহা হচ্ছে এই হজের আনুষ্ঠানিকতার শেষ দিনে পশু কুরবানীর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা’- ড. ইব্রাহীম এমনটি বলেন।

৩। মুসলিমরা কিভাবে এই দিনটি উদযাপন করেন?

ড. ইব্রাহীম: যেসব মুসলিম পবিত্র নগরী মক্কাতে হ্জ পালনের উদ্দেশ্যে যান তারা সেখানেই এই দিনটি উদযাপন করেন। আর যারা নিজেদের বাসস্থানে অবস্থান করেন, তারা পশু কুরবানির মাধ্যমে তাদের পরিবারের সাথে ভালো খাবারদাবারের আয়োজনের মাধ্যমে এই দিনটি উদযাপন করেন। যাদের পশু কুরবানি দেয়ার মত সামর্থ নেই তাদের সাথে কুরবানির পশুর গোস্ত ভাগাভাগি করার মাধ্যমে সারা বিশ্বের মুসলিমরা এই দিনটি পালন করে থাকেন।

৪। মুসলিমরা কি এই দিনে উপোস (রোজা) থাকে?

ড. ইব্রাহীম: মুসলিমরা সাধারণত রমজান মাসে রোজা রাখেন। তবে ‘যেসব মুসলিমরা হজব্রত পালনের জন্য পবিত্র মক্কা নগরীতে যেতে পারেনি তাদের অনেকেই ঈদ উল-আজহার শুরুতে এবং এর শেষের দিকে রোজা থাকেন।’- ড. ইব্রাহীম এভাবে ব্যাখ্যা দেন।

৫। এই দিনটি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

ড. ইব্রাহীম: ঈদ উল-আজহা পালনের মাধ্যমে প্রত্যেকটি মুসলিম এ কথা মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন যে, তারা পশু কুরবানির মাধ্যমে মহান আল্লাহ তাআলার নিকটে তাদেরকে সমর্পণ করে এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যে তাদের যাবতীয় কর্মকে কুরবানি দেয়। এটি নবী ইব্রাহীম (আঃ) প্রতি আল্লাহর নির্দেশে স্বতস্ফুর্তভাবে তার নিজের পুত্র ঈসমাইলকে কুরবানি করার উদ্যোগ গ্রহণের স্মৃতি স্মরণ করার উদ্দেশ্যেই পালন করা হয়।

সৌভাগ্যক্রমে নবী ইব্রাহীম (আঃ) যখন তার পুত্র ঈসামাইলকে কুরবানি দেয়ার জন্য উদ্যত হন তখন আল্লাহ ঈসামাইলের পরিবর্তে সে স্থানে একটি ভেঁড়া দিয়ে দেন এবং নবী ইব্রাহীম (আঃ) সেই ভেঁড়াটিকেই জবাই করেন। এবং সেই মহান দিনটির স্মৃতি রক্ষার্থেই আল্লাহর হুকুমে প্রত্যেক মুসলিম এই দিনটিতে কুরবানি দেন।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT