Main Menu

ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির কতিপয় সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

এক যুগের ও বেশি পুরাতন সিডনির ঐতিহ্যবাহী ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির কতিপয় সদস্যদের বিরুদ্ধে  গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেখানে যেন অনিয়মটাই নিয়মে পরিণত হয়েছে। কাজীর গরু কিতাবে আছে, গোয়ালে নেই। এমনিভাবেই কাগজে কলমে চলছে ম্যানেজিং কমিটির কার্যক্রম। স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকারা ও  বিদ্যালয়ের   ম্যানেজিং কমিটির একজন সম্পাদক ও তার কিছু  অনুসারিদের কাছে জিম্মি হয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। বিদ্যালয়ের  অধ্যক্ষকে পুতুল সাজিয়ে ঐ সম্পাদক সবকিছু  নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন । আর অনিয়ম,  ও অব্যবস্থাপনার কারণে বর্তমানে ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যালয়ের লেখাপড়ার মান একেবারেই নিম্নগামী।বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে সপ্তাহে একদিন ঐ স্কুলের শিক্ষার্থীদের এক ঘন্টা গান শেখানোর নিয়ম রয়েছে।  কিন্তু ঐ সম্পাদক ১০ মিনিটের মধ্যে বাচ্চাদের গানের ক্লাস সমাপ্ত করে কয়েক ঘন্টা ধরে নিজের অনুসারীদের নিয়ে প্রতিনিয়ত গানের রিহার্সেল করে থাকেন। এছাড়া বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অধিকতর যোগ্য শিক্ষার্থীদের সুযোগ না দিয়ে নিজের পছন্দের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহনের ব্যবস্থা করেন তিনি ।

 

এর পাশাপাশি গান শেখানোর ক্লাসে  বিভিন্ন অজুহাতে শিক্ষার্থীদের সাথে দূরব্যবহার করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ আছে গান শেখানোর  একটি ক্লাসে ঐ সম্পাদক রেগে গিয়ে টেবিলের উপর  এত জোরে শব্দ করেছিলেন যে,  ভয়ে প্রায় সব শিক্ষার্থী কেঁদে দিয়েছিল। এর পর পরই স্কুল থেকে একযোগে  কয়েকজন শিক্ষার্থী চলে যায় এবং যারা কখনোই ফিরে আসেনি।

 

সর্বশেষে ঐ সম্পাদক ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে গত ৫ আগষ্ট ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুলের  পিঠা মেলার  সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহনে বাধা দেওয়ার  অভিযোগ করেছেন  একদল অভিভাবক। তারা বলেছেন স্কুল ম্যানেজিং কমিটির কতিপয় সদস্য ও   সম্পাদকের স্বেচ্ছাচারিতায়  কারনে  ঐ সকল কোমলমতি  শিক্ষার্থীরা সকল প্রস্তুতি নিয়ে আসার পরে ও  অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেনি। এই সময় অন্তত পক্ষে একজন শিক্ষার্থীকে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহনের জন্য অপেক্ষারত বাচ্চাদের মধ্য থেকে অনেকটা জোর পূর্বকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়।এই সময় ঐ সকল শিক্ষার্থীরা বার বার অভিভাবকদের কাছে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে না নেওয়ার কারন জিজ্ঞাসা করতে থাকে, অনুষ্ঠানে অংশ নিতে তাদের আকুতির কথা জানাতে থাকে ।  এই সময় স্কুল কমিটির সভাপতি ঐ সকল শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে  আলাদাভাবে অংশ গ্রহনের আশ্বাস দিলে ও ঐ সম্পাদক তাতে  বাধা দেন। নিরুপায়  অভিভাবকরা বার বার ঐ সম্পাদককে,  বাদ দেওয়া শিক্ষার্থীদের অংশ গ্রহনের ব্যবস্হা করার  বিনীত অনুরোধ করলে তা ও অত্যন্ত রুড় ভাবে প্রত্যখ্যান করা।  এমনকি  এই সময়  কমিউনিটির স্হানীয় কয়েকজন নেতা  বিষয়টি নিয়ে অনুরোধ করলে, তাও  তারা কর্নপাত করেননি। অভিভাবকরা আরো অভিযোগ করে বলেন যে, ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুলের  পিঠা মেলার  সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাচ্চাদের অগ্রাধিকার থাকার কথা  থাকলেও তা না করে স্বল্প সময়ে শিক্ষার্থীদের অনুষ্ঠান শেষ  করে ম্যানেজিং কমিটির কতিপয় সদস্য ও তাদের পরিচিত নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নামে অপ সাংস্কৃতিক প্রদর্শন শুরু করে। যেখানে সারা বিশ্বে তামাক বা ধুমপানের বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের উপর কঠোর বিধি নিষেধ আরোপ করা হচ্ছে যেখানে স্কুল কমিটির সদস্যরা  এই অনুষ্ঠানে কোমলমতি  শিক্ষার্থীদের সামনে হুক্কা খাওয়ার  প্রদর্শনী করেছে। 

শিক্ষার্থীদের সামনে হুক্কা খাওয়ার  অভিনয় করা হচ্ছে

শিক্ষার্থীদের সামনে হুক্কা খাওয়ার  অভিনয় করা হচ্ছে

এই ঘটনায় বিক্ষুদ্ধ অভিভাবকরা তাদের সন্তাদের আর ঐ স্কুলে না পাঠানোর ও ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

ঘটনার একজন প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় সংগঠক ইসমাইল মিয়া । তিনি এই প্রতিবেদকে বলেন, বাংলা স্কুলে এমনিতেই শিক্ষার্থীদের সংকট থাকে, এছাড়া এদেশে জন্ম নেওয়া বাচ্চারা বাংলা শিখতে বা চর্চা করতে চাই না, এরকম অবস্থায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আসা কোমলমতি শিশুদের সাথে এরকম আচারন তাদের মনে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্ঠি করবে। তারা আর স্কুলে আসতে চাইবে না। ফলে ঐ স্কুলের শিক্ষার্থীদের সংকট আরো বাড়বে।

 

অনুষ্ঠানে আরো উপস্হিত ছিলেন বাংলাদেশ এসোশিয়েসন নিউ সাউথ ওয়েলসের সভাপতি মাহবুব  রহমান, যিনি   সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অংশ নিতে বাধা দেওয়ার ব্যাপারটিকে দুর্ভাগ্যজনক এবং অনাকাঙ্ক্ষিত  বলে মনে করেন তিনি ।তিনি  ম্যানেজিং কমিটিকে  এই ব্যাপারে আরো উদার হওয়ার আহবান জানান।

 

এই ব্যাপারে ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুলের  সভাপতি আবদুল জলিলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি  একাধিক শিক্ষার্থীদের  সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ  অস্বীকার করেন , তিনি বলেন মাত্র একজন শিক্ষার্থীকে অংশগ্রহন করতে দেওয়া হয়নি কারন সে ফাইনাল রিহার্সেল অংশ নেয়নি,  তিনি আরো  বলেন, আমারা এই বছর সিদ্বান্ত  নিয়েছিলাম যে , কোন শিক্ষার্থী যদি রিহার্সেল অংশ না নিলে তাকে মুল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহনের অনুমতি  দেওয়া হবে না।  তিনি ঘটনার জন্য দূঃখ প্রকাশ করেন।

তবে এই ব্যাপারে অভিভাবকদের জিজ্ঞাসা করা হলে তারা বলেন,  স্কুল কর্তৃপক্ষের ক্ষুদে বার্তায় কোথা ও বলা হয়নি ফাইনাল রিহার্সেল অংশ না নিলে মুল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করতে পারবে না। প্রমান স্বরুপ তারা এই প্রতিবেদককে ক্ষুদে বার্তাটি ও দেখান।

 

 শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে  স্কুলে বয়স্কদের অংশগ্রহন সম্পর্কে আবদুল জলিল বলেন, ফান্ড রেইজিং এর জন্য মান সম্মত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করতে বেশ কয়েকজন শিল্পীকে আমন্ত্রন জানানো হয়েছিল।অন্যদিকে স্কুলের কার্যক্রমের অনিয়ম সম্পর্কে  জানতে  অধ্যক্ষের  সাথে  যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তা সম্ভব হয় নি।

 

 

সংগঠনটির সাবেক একাধিক  সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এই ধরনের আচারনের নিন্দা করেন। এই প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবেক  সভাপতি রিহার্সেলে অংশ না নেওয়ার কারনে  শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহনে বাধা দেওয়া এবং ব্যাক্তি বিশেষ এর ইশারায় স্কুল পরিচালনার  ঘটনা শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং এটাকে  ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুলের ইতিহাসে নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করেন ।  তিনি  বলেন,  সুস্হ মস্তিস্কের কেউ শিশুদের সাথে এই ধরনের কাজ করতে পারে বলে তিনি বিশ্বাস করেন না। তিনি আরো বলেন " এই ধরনের সদস্যদের কমিটি থেকে বের করে দেওয়া উচিত , তা না হলে এরা স্কুলটিকে ধংস করে দেবে।

 

স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির কতিপয় সদস্যদের  বিভিন্ন অনিময় ও স্বেচ্ছাচারি কার্যক্রমে চাপা ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করে ক্যাম্বেলটাউন এলাকার বাংলাদেশী সচেতন মহল ফুঁসে উঠেছে। তারা বিদ্যালয়ের স্বার্থে ঐ সকল বিতর্কিত ও অযোগ্য ব্যাক্তিদের কমিটি থেকে  বাদ দেওয়ার  দাবী জানিয়েছেন।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT