Main Menu

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়ংকর এক মিশনের গল্প

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ মানব ইতিহাসের সবচেয় বৃহৎ ও ভয়াবহ যুদ্ধ। এতে মিত্রবাহিনী ও অক্ষশক্তি উভয়েই পরস্পরের বিরুদ্ধে এমন কিছু মিশন পরিচালনা করে, যা একদিকে রোমাঞ্চকর অপরদিকে ভয়ংকর। তেমনি একটি অভিযানের নাম ‘অপারেশন গানারসাইড’।

১৯৪২ সাল। পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য উঠেপড়ে লেগেছে ২য় বিশ্বযুদ্ধের দুই পক্ষ। একদিকে আমেরিকান আর ব্রিটিশরা নিউ মেক্সিকোতে ম্যানহাটন প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করছে, অন্যদিকে নরওয়েতে নাৎসিরা ব্যস্ত একই উদ্দেশ্য নিয়ে।

ভেমর্ক হাইড্রো-কেমিক্যাল কারখানা তখন পৃথিবীর একমাত্র স্থাপনা যেখানে ভারী পানি তৈরি করা হয়। অ্যাটমিক রিঅ্যাকটর বানানোর জন্য ভারী পানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। আর এর দখলে রয়েছে নাৎসিরা।

মিত্রবাহিনী জানতো যে, নাৎসিদেরকে পারমাণবিক বোমা বানানো থেকে বিরত রাখতে হলে এই কারখানা অকেজো করে দিতে হবে, কিন্তু পুরো কারখানাটিই রয়েছে পর্বতের গভীরে, যেখানে বিমান আক্রমণ এককথায় অসম্ভব। ব্রিটিশ স্পেশাল অপারেশনস এক্সিকিউটিভ এক বছর আগেই তাদের ৬ জন কমান্ডোকে পাঠিয়েছিল সরাসরি আক্রমণ করার জন্য, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে প্রত্যেকেই মারা যায়। এবার নরওয়েজিয়ানদের পালা।

১৬ ফেব্রুয়ারি, ছয়জন নরওয়েজিয়ান কমান্ডো প্যারাসুটে করে নেমে এলো কারখানার অদূরে থাকা টেলিমার্ক নামক স্থানে। কারখানায় যাওয়ার মাত্র একটি রাস্তা। সরু উপত্যকার মাঝ দিয়ে ৩০০ মিটারের একটি সেতু। বাকি জায়গা মাইন দিয়ে ঘেরা আর স্পটলাইট দিয়ে আলোকিত করে রাখা। কিন্তু কমান্ডোদের পরিকল্পনা ছিল অন্যরকম। তারা সেতুর উপর দিয়ে না গিয়ে উপত্যকার অন্য দিকে নেমে, বরফে ঢাকা নদী পার হয়ে, আবারো পাহাড় বেয়ে কারখানার উল্টো দিক থেকে ঢুকে পড়ল।

কারখানার ভেতরে থাকা একজন গুপ্তচরের সহযোগিতায় পুরো কারখানার নীলনকশা দেখে কারখানার গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোয় বোমা পেতে রেখে ফিরে আসে । পুরো কারখানাই ধ্বংস হয়ে যায় এই অপারেশনে, নাৎসিরা হারায় তাদের একমাত্র ভারী পানি উৎপাদনকারী কারখানা। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও কমান্ডোদের টিকির সন্ধান পায়নি নাৎসিরা, কমান্ডোরা ততক্ষণে সুইডেনে নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে গেছে।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT