Main Menu

কালা কাইতন ও ভাগোয়ান রজনীশ

 

ড. রতন কুন্ডু: আকাশ ও মিলা সিডনীর বন্ডাই বিচ্ এ আজ বিকেলে আড্ডা দিচ্ছে। উভয়েই এক বছরের ফারাকে অষ্ট্রেলিয়া এসেছে পড়াশুনার জন্য। প্রথম দেখা সিডনি ইউনি ক্যাম্পাসে। একাডেমিক কোয়াড্রান্টে মুখোমুখি দেখা। আকাশ অবাক হয় একটি নতুন বাঙ্গালী মেয়েকে দেখে

- এক্সকিউজ মি:। আ’ ইউ ফ্রম বাংলাদেশ ?

- ইয়াহ্। ইউ ?

- হ্যা আমিও । নাম আকাশ, গেলবার এলাম, একাউনটিং এ মাস্টার্স করছি। আপনি ?

- আমি মিলা। একচুয়ারীতে গ্রাজুয়েসন করব। কোথায় থাকেন আপনি ?

- আমি বাঙ্গালী পাড়া ল্যাকেম্বা থাকি। আপনি ?

- আমিও আরেক বাঙ্গালী পাড়া রকডেল এ শেয়ার্ড একোমোডেশনে থাকি। বাকী হাউজমেটরা বাঙ্গালী ছাত্র। মিলে মিশে আছি।

- আমিও শেয়ার্ড এ আছি। একজন বাঙ্গালী ও অন্য এক ইল্ডিয়ান কাপল।

- কাপল বলছেন কেন ? স্বামী স্ত্রী না ?

- আমি ঠিক জানিনা তবে একত্রে থাকছে, খাচ্ছে, ঘুমাচ্ছে। এ দেশে কেউ কারুর ব্যাপারে নাক গলাতে যায় না।

সেই থেকে তারা বন্ধু। মিলার যেমনি পিছুটান আছে, আকাশেরও তেমনি কোন একজন প্রতীক্ষায়। কিন্তু এখানে তারা পরস্পরের অনেক কাছাকাছি হয়ে যায়।

আজ কোন গল্প শোনাবে? নতুন কোন গল্প পেয়েছো? মিলা উৎসুক চোখে আকাশের দিকে তাকায়। আকাশ উৎসাহিত হয়।

হ্যা গল্পতো তৈরী হয়েছে। না ঠিক গল্প নয়। অনেকটা কাল্পনিক। অতি সম্প্রতি একটি জাতিসত্তার রাণী এসেছিলেন এক সংবর্ধনা সভায়। সাথে এক জাহাজ পাইক পেয়াদা। কথা সেটা নয়। তিনি একটি উপলক্ষ মাত্র। যিনি এ গল্পের মূল নায়ক তিনি হলেন, কুটনীতিক চাণক্য, যিনি রাণীর সফরকে সাফল্য মল্ডিত করার কাজে নিয়োজিত। তাকে অতীত কাজের পুরষ্কার হিসেবে এখানে পদাţন করা হয়েছে কুট কৌশল অবলম্বন করে গোষ্ঠীস্বার্থ সিদ্ধি করার জন্য।

তোমার কথার মাথা মুন্ডু কিছুই বুঝিনা। কে সেই চাণক্য আর তাঁকে কোন ব্যাপারে কুট কৌশলবিদ বলছো ? একটু হালকা করো।

-শোনো তাইলে তোমাকে একটু ইতিহাস বলি,

চানক্য পন্ডিত, যার অন্য নাম কৌশিল্য কিন্তু আসল নাম বিঞ্চু গুপ্ত। তাকে সবাই ভাদাইম্যা বলে ডাকতো। আজ থেকে প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে রাজা চন্দ্রগুপ্তের রাজ দরবারে প্রথমে কল্কি সাজানোর দায়িত্ব দেয়। সেখান থেকে তার পরামর্শক ও পরে প্রধানমন্ত্রী হয়ে যায় তার কুট কৌশলের কারণে। আমার গল্পের এই বিংশ শতাব্দীর কৌশিল্যের নাম হল ভাগোয়ান রজণীশ (ছন্দ নাম) ।

মিলা, রজনীশের কৃত্তি কলাপ পত্রিকায়, ইন্টারনেটে ও ইউ টিউবে পড়েছে ও দেখেছে। এবার মিলা নড়ে চড়ে বসে।

- ইন্টারেষ্টিং ! মনে হচ্ছে জমবে। কিন্তু একটা ব্যাপারে খটকা লাগছে। একদিকে, রজণীশ অন্যদিকে ভগবান? ব্যাপারটি বুঝিয়ে বলো। আকাশ উৎসাহিত হয়।

- একবার ভেবে নেয় ভাগোয়ান রজনীশের কাইতন তত্ব মিলাকে বলা ঠিক হবে কিনা! তাকে যদি ভালগার মনে করে তাইলে দু’দিনের সম্পর্ক ঠুস্ হয়ে যাবে। কিন্তু না বলেই বা উপায় কি! এই গল্পের মুল চরিত্র তো তিনটি; কালা কাইতন, সাদিয়া সুলতানা, ও ভগোয়ান রজনীশ। আর পার্শ্ব চরিত্র হলো সাত ভাই চম্পা। কিভাবে শুরু করবে ভেবে পাচ্ছেনা। মিলা অসহিষ্ণু হয়।

- কি ব্যাপারে ফ্রিজ হয়ে গেলে কেনো? শুরু করো। আকাশ, ঝেড়ে কেশে গলা পরিষ্কার কর।

- হ্যা যা বলছিলাম এ গল্পটির একটি মুল চরিত্র হল কাইতন।

- কাইতন মানে হলো তাগা, একটি কালো রঙের মোটা সুতা যা অতিপ্রাকৃতিক প্রয়োজনে মানুষের হাতে, পায়ে, মাজায় কিংবা চুলে পড়ানো হয়। এর সাথে কবজ , তাবিজ, কড়ি, শামুক, ঝিনুক কিংবা গাছের শেকড় বেঁধে দেয়া হয়। মিলা অসহিষ্ণু হয়-

- তাতো বুঝলাম, কিন্তু গল্পের সাথে কাইতনের সর্ম্পক কি?

- আছে। নিবিড় সর্ম্পক আছে। তবে আমি সবটা জানিনা। বিস্তারিত সাদিয়া সুলতানা জানেন।

- তিনি আবার কে? গল্পটায় অনেক উদ্ভট চরিত্র চলে আসছে! আমি খেই হারিয়ে ফেলেছি। স্পষ্ট করে বলো।

- ঠিক আছে চলো সাদিয়া ম্যাডামের কাছ থেকে বি¯তারীত শুনি।

- ভাগোয়ান রজনীশ পদায়নের পরপরই তার দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে মিটিং এ বসেন ভবিষৎ কর্মপন্থা নিরূপনের জন্য। অবাক হয়ে দেখেন তারমধ্যে সিংহভাগই মহিলা। তার মাথা ঘুরপাক খায়! এতো মহিলা কেন? মনে মনে খুশীই হয়। উপরওয়ালা যা করে মঙ্গলের জন্যেই করে। মেঘ না চাইতেই জল! ব্যক্তিগত সহকারী মকবুল জানালো-

- স্যার এরা সবাই ধান্ধায় আছে। ছেলে মেয়েদের এখানকার স্কুলে পড়াচ্ছে। ধীরে ধীরে দেখবেন আপনার মাথা চিচিয়ে খাবে। ছলা-কলা করে এখানে পোষ্টিং ঠিক রাখার জন্য কিংবা ট্রান্সফার ঠেকানোর জন্য আপনার কোয়ার্টার মোবারকে তশরীফ রাখবেন। রজনীশ মনে মনে ডিসকো নাচ নাচেন। আহ কি সুযোগ! কি সুসন্দেশ। প্রকাশ্যে বলেন

- মকবুল সাহেব আপনি আমার দিকে একটু খেয়াল রাখবেন। আমি যেন বিপদে না পরি।

- কি যে বলেন জনাব। আমি আপনার সেবাদাস। আপনার নওকর। শুধু হুকুম দেবেন। তামিল হয়ে যাবে। আর আপনি আমাকে তুমি করে বললেই আমি কৃতার্থ হবো।

দিন না গড়াতেই তানিয়া এসে গুরুর ডেরায় হাজির। সারাদিন মনে মনে পয়েট তৈরী করে এনেছে নতুন গুরুকে কিভাবে বশ করা যায়। পরদিন মারিয়া। এভাবে একে একে সবাই গুরু দর্শন করে। কিন্তু ঐ যে চৌকষ ধারালো চেহারার মেয়েটা সে তো আজব্দি আসলনা! ব্যাপারটা কি? রজনীশের চোখে কিঞ্চিত বিস্ময়!

- মকবুল মকবুল। হুজুর হাক ডাক করতেই মকবুল মরিচ খেতের পরিচর্যা ছেড়ে হন্তদন্ত হাজির হয় বৈঠকখানায়। হাতে তখোনো মাটি লেগে আছে। তাই হাত দুটো পেছনে বন্দী করে মাথা নীচু করে বলে

- গুরু এত্তেলা দিয়েছেন? বয়ান করুন।

- আচ্ছা মকবুল, সবাইতো আমার সাথে এসে দেখ করে গেল, পরামর্শ দিল, কিন্তু একজনতো এখনো এলোনা! মকবুল বেকুবের মতো জিগ্যেস করে

- কার কথা বলছেন গুরু?

- আহা ঐ যে নীল শাড়ী পরে অফিস করে।

- ও সাদিয়ার কথা বলছেন। এখনই যাচ্ছি গুরু।

ঐ দিন বিকেলেই সাদিয়া সুলতানা ভাগোয়ানের দরবারে তশরিফ রাখেন।

- স্যার আমাাকে ডেকে পাঠিয়েছেন? রজনীশ তাকে আড়চোখে পর্যবেক্ষণ করে। বুকটা দুরুদুরু করে ওঠে।

- আমাকে ছার বলার প্রয়োজন নেই। সবাই আমাকে গুরু ডাকে। তুমিও আমাকে গুরু বলেই ডাকতে পারো। হ্যা শোনো, রানীমা আসবেন। আমার উপর সব দায়িত্ব। আমি নতুন এসেছি। সবার পরামর্শ নিচ্ছি। তোমারও পরামর্শ চাই। তুমি তো জানো, আমি নতুন এ শহরে। ভাও বাতাস বুঝিনা। তুমি সুন্দরী ও বুদ্ধিমত্মা তোমার পরামর্শ আমার প্রয়োজন। সাদিয়া মনে মনে অনেক খুশী হয়। আনন্দে আপ্লুত হয়। হঠাৎ করে রজনীশকে পায়ে হাত দিয়ে সালাম করে ফেলে।

- গুরŮ আমি আপনাকে সব পরামর্শ দেব, সবকিছু দেব কিন্তু আপনি তানিয়া, মারিয়া, জিনিয়া ওদের কারŮর সাথে যোগাযোগ করতে পারবেননা। কাউকে বলতে পারবেন না। আপনি হুকুম দেবেন ওরা তামিল করবে। আমি বুদ্ধি দেব। বিনিময়ে আমর ট্রান্সফরটা বন্ধ করে দিতে হবে। গত ডিসেম্বরে আমাকে শ্যমদেশে বদলী করেছে। ষ্ট্যন্ড রিলিজ। আমি যেতে চইনা। শুধুমাত্র আপনিই পারেন। আপনি সুপারিশ করে এটা বন্ধ করে দিতে পারলে আমি আপনার সেবাদাসী হয়ে থাকব। রজনীশ উদ্বেলিত হয়। দুহাতে সাদিয়াকে তুলে আনে। মাথায় পিঠে হাত বুলিয়ে দেয়।

- তুমি কিছু চিšতা করো না। আমার উপর ভরসা রাখো। এখন কাজের কথায় আসি। বলো তোমার মতামত শুনি।

- গুরŮ এভাবে তো হয়না! একসাথে বসে মাষ্টারপ্লান তৈরী করতে হবে। আপনি তে সবই জানেন! আপনি তো শ্যামদেশে ছিলেন। সেখানে শিয়াল-কুকুরের কামড়া-কামড়ি দেখেছেন। সব সুন্দরভাবে সমাধানও করেছেন। কিন্তু এখানকার পরিস্থিতি ভিন্ন। এখানে কেউ কাউকে পরোয়া করে না। সবাই নেতা। সবাই পাতা চায়। আপনি কয়জনকে খুসী করবেন? আর এ জন্যই মাষ্টারপ্লান তৈরী করতে হবে।

- হ্যা তা ঠিক আছে। কিন্তু হাতে তো সময় কম। আগামী পরশু পাইক পেয়াদা এসে পরবে। সবকিছু দেখবে, বিচার-বিশ্লেষণ করে গ্রীন সিগন্যাল না দেয়া পর্যšত রানীমা রওনা হবেন না।

- ঠিক আছে গুরু, আজ রাতেই তাহলে বসতে হবে। আমি ছক তৈরী করে নিয়ে আসবো। পছন্দ হলে আপনি গ্রহন করবেন। নিজের বিচার বিবেচনায়। কোন কিছু খারাপ হলে আমার দোষ দিতে পারবেন না। রজনীশ বিরক্ত হন। কিছুটা অসহিষ্ণু হয়েই বলেন

- আহা তোমার শর্ত রাখো। আগে তো প্ল্যানটা শুনি। তারপর ভাবা যাবে। সাদিয়ার মুখে দুষ্টুমির হাসি খেলে। গুরু, সব কিছুর আগে আপনাকে একটা গল্প বলবো। কোন প্রশ্ন করতে পারবেন না। ঠিক আছে? রজনীশ উৎসুক চোখে তাকায়-

- আমি তখন ছোট। ক্লাস সিক্সে উঠেছি সবে। হাইস্কুলে ভর্তি হওয়ার সাথে সাথেই নিজেকে বড় বড় মনে হতে লাগলো। শরীরেও পরিবর্তন আসা গুরু হয়েছে। মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। সবকিছু সামাল দিয়ে আব্বার পক্ষে সংসারের সব খরচ সামলানো সহজ ছিলনা। বড় বোনটার বিয়ে ঠিক হয়েছে। আকদ্ হয়ে গেছে। ঐ দিন তুলে নেবে। বাড়ি ভর্তি মেহমান। দিনের বেলায় কোন সমস্যা হয়নি। রাতে কে কোথায় ঘুমাবে এটা নিয়ে সমশ্যা দেখা দিল। আমাদের বাচ্চাদের পেছনের বারান্দায় শোওয়ার ব্যবস্থা হল। বড়দের মধ্যে শুধুমাত্র মিলি আপু আমাদের সাথে। মধ্য রাতে কে যেন আমাদের বিছানার কাছে এলো। মিলি আপু ভয়ে ককিয়ে উঠতেই একটি ফিসফিসে কন্ঠে কে যেন বয়ান করে - আমি আজরাইল। কেউ কোন শব্দ করলেই জান কবচ করে ফেলবো। আমরা সবাই ভয়ে সিটিয়ে গেলাম। রাতের আন্ধকারে ভূমিকম্প হল। ভূমিকম্প শেষ হতেই মিলি আপা চিৎকার করে ওঠে-

- আম্মাগো আমারে বাচাঁও। আল্লাহ্ আমারে বাচাঁও। চীৎকার শুনে আম্মা হ্যারিকেন উসকে আমাদের ঘরে এলো। আবছা আলোয় দেখি বিবস্ত্র মিলি আপু গায়ে একটা চাদর জড়িয়ে বসে আছে আর ধুক ধুক করে কাঁপছে। সবাই জিগ্যেস করে

- কি হয়েছে, কি হয়েছে তোর? তার কন্ঠস্বর কান্নার মাঝে ম্লান হয়ে গেছে। একটা কথাই সে উচ্চারণ করতে পেরেছিল।

- আজরাইল এসেছিল। আজরাইল আমারৃ----। সে রাতে বড়রা সবাই মিলি আপুকে নিয়ে অন্য ঘরে চলে গেলেও আমরা আর সারারাত ঘুমাতে পারিনি। পরদিন দেখলাম বড় খালা সবার মাজায় কালা কাইতন লাগিয়ে দিল। রজনীশ না বুঝতে পেরে জিগ্যেস করে

- কাইতন কি?

- আমি বলছিনা আমার বলার মধ্যে কোন প্রশ্ন করবেন না। যাই হোক, কাইতন হল কালে রং এর এক ধরনের মোটা সুতা, যাকে সুরক্ষা রশি মনে করা হয়। আঞ্চলিক ভাষায় একে বিভিন্ন নামে চেনে। কেউ বলে তাগা, কেউ বলে সাতনরি, কেউ বলে কালারশি। গ্রামের মানুষের বিশ্বাস এই রশি সবাইকে বিপদ থেকে, বালা মসিবত থেকে উদ্ধার করে। জ্বীন-পরীর আছর থেকে রক্ষা করে। এ নিয়ে রাতে বি¯তারীত আলাপ করবো। রজনীশ উসখুশ করে

- আচ্ছা একটা কথা জানতে ইচ্ছে করে। যদি কিছু মনে না করো।

- বলেন

- তুমি কি এখনো কাইতন ব্যবহার করো? সাদিয়া মুচকি হাঁসে।

রাত ঠিক আটটায় সাদিয়া রজনীশের ঘরে প্রবেশ করে। রজনীশ অপেক্ষাতেই ছিল।

- আসো সাদিয়া, তোমার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম, বসো। এর মধ্যে মকবুলকে বললো চা-না¯তা নিয়ে আসার জন্য।

- তারপর বলো কেমন আছো? বাই দ্য ওয়ে, তোমাকে আজ দেখতে কিন্তু অপূর্ব লাগছে! সাদিয়া মৃদু আন্দোলিত হয়।

- কাল নতুন করে সাত ভাই চম্পা দেখলাম। অনেক ভালো লেগেছে। রজনীশ অসহিষ্ণু হন।

- আসল পরিকল্পনা বলো। আমার মাথা বেহেড হয়ে আছে। একটা ছোট্ট ঝাকুনি দিয়ে শাড়ীর আচলটা কাধে তুলে দেয় সাদিয়া।

- সেটাইতো বলছি। রানীমা আসছেন, সাথে প্রায় শ’খানেক পাইক, পেয়াদা, তীরন্দাজ বরকন্দাজ আসছে। আপনি একটা পরিচালনা বা ষ্টিয়ারিং কমিটি তৈরী করবেন।

- হ্যা তাতো করবোই। কিন্তু আমি তো কাউকে চিনিনা।

- সমস্যা নেই। আমিতো পাঁচ বছর যাবৎ আছি। সব হাতী, ঘোড়া, বাঘ-ভাল্লুক আমার চেনা। আসলে এরা কেউই তা নয়। এরা শিয়াল কুকুরের মতো নিজেদের মধ্যে কামড়া কামড়ি নিয়েই ব্য¯ত। ম্যনেজ করা সমস্যা হবেনা। এক জনকে আরেক জনের পেছেনে লেলিয়ে দিয়ে নিজের কাজ উদ্ধার করতে হবে।

- কিন্তু এরা সবাই যদি একত্রিত হয়ে আমার বিরুদ্ধে সংগ্রামে নেমে যায় তাইলেতো আমারই এ দেশে থাকা অসম্ভব হয়ে যাবে।

- কিছু হবে না। আপনি দলের প্রত্যেক গ্রপ থেকে দুইজন করে মোট ৪ জন আর রানীমার লতায় পাতায় এক আত্মীয় আছেন, এই হল ৫ জন আর আপনার নিজস্ব একেবারে ঘনিষ্ট ২ জন মিলিয়ে সাত ভাই চম্পা সিনেমা বানিয়ে ছেড়ে দেন। দ্যাখেন কি হয়। রজশীল মাথা চুলকে বলেন-

- সাত ভাই তো হোলো কিন্তু চম্পা কোথায় পাবো?

- আপনি এতো বড় কুটনৈতিক কৌটিল্য, আপনি এখনো বুঝতে পারছেন না চম্পা কোথায়? রজনীশের মুখে স্মিত হাসি ফুটে ওঠে।

- আমি কালই যাব ভেন্যুর শহরে। কমিটি করে দেব। তারপর তারা কামড়া কামড়ি করে ঠিক করŮক কে পৌরহিত্য করবে, কে সঞ্চালন করবে, কে ভাষন দেবে আর কারা কারা ফুলের তোড়া দেবে। আচ্ছা এতেও যদি শেষ রক্ষা না হয়। যদি গন্ডগোল লেগে যায় তখন সামলাবো কি করে?

- কিচ্ছু চিšতা করবেন না। তুরুপের তাস আপনার হাতে। হাজার লোকের টিকেট আপনার কাছে। নিজের ভক্তদের জন্য একশ, রানীমার দলের জন্য একশ, আর সাত ভাই চম্পার জন্য আটশ কাইতন বিলি করবেন। সবাই তখন ঐ কাইতন নিয়ে কামড়া কামড়ি করবে আর অনুষ্ঠানও নির্বিঘ্নে হয়ে যাবে। এবার রজনীশের মুখে তৃপ্তির হাসি দেখা দেয়।

- তুমি আসলেই জিনিয়াস সাদিয়া। আচ্ছা তোমকে একটা কথা জিগ্যেস না করে পারছি না। কিছু মনে না করলে বলি!

- আপনি নির্দ্বিধায় বলতে পারেন। সাদিয়ার চোখে দুষ্টুমির হাসি!

রজনীশ ঢোক গিলতে আমতা আমতা করে বলেন-

তুমি কি আজও কাইতন পরে এসেছো? সাদিয়া এবার সত্যি লজ্জা পায়। সলজ হেসে বলে না আজ কইতন ছেড়ে

না আজ কাইতন ছেড়ে এসেছি। প্রয়োজনে আবার পরবো। (চলবে)


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT