Main Menu

এবার অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড জুড়ে মুক্তি পাচ্ছে “ঢাকা অ্যাটাক”

বাংলাদেশে গত ৬ অক্টোবর মুক্তি পাওয়া দেশীয় বাংলা ছবি  “ঢাকা অ্যাটাক” এর প্রশংসা  এখন প্রায় সব বাংলাদেশিদের মুখে মুখে। এর কারন চলচ্চিত্রটির অসাধারন নির্মান এবং আকাশ ছোঁয়া বানিজ্যিক সাফল্য। বাংলাদেশ জয় করে ঢাকা অ্যাটাক মুক্তি পাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড এর প্রধান শহরগুলোতে।ঢাকা অ্যাটাক এর অস্ট্রেলিয়া যাত্রা শুরু হবে ব্রিসবেন শহর থেকে আগামী ২৭ অক্টোবর। সেদিন শোনেল থিয়েটার এন্ড সিনেমা হলে সন্ধ্যা ৬-৩০ মিনিটে দেখানো হবে সিনেমাটি। এরপর ১২ নভেম্বর বিকেল ৩ টায় দেখানো হবে সিডনির অবার্নে অবসস্থিত রিডিং সিনেমাস হলে। একই দিনে অ্যাডেলেইডেও দেখানো হবে। একই দিনে মেলবোর্ন শহরেও সিনেমাটি দেখানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে যা স্থানীয় আয়োজকরা নিশ্চিত করে জানিয়ে দেবেন নিজ নিজ শহরের দর্শকদের।অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবের, পার্থ এবং নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড শহরে সিনেমাটি দেখানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে আগামী ২ ডিসেম্বর তবে তার আগেও আয়োজন করা হতে পারে এবং সময়মত প্রবাসীদের  জানিয়ে দেবেন আয়োজকরা।

এই উপলক্ষে গত ১৫ অক্টোবর রবিবার বিকেল ৪ টায় চলচ্চিত্রটির অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড অঞ্চলের পরিবেশক প্রতিষ্ঠান বঙ্গজ ফিল্মস এবং সিডনি শহরের অংশীদারগন প্রেস এন্ড মিডিয়া মিটের আয়োজন করেন। অনাড়ম্বর  হলেও সিডনির স্থানীয় সাংবাদিকদের পাশাপাশি উপস্থিত সকলের সরব অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি প্রানবন্ত হয়ে উঠে। অতিথিদের সাথে ফেসবুক মেসেঞ্জারের মাধ্যমে সরাসরি মতবিনিময় করেন চলচ্চিত্রটির কাহিনীকার এবং প্রযোজক সানি সানোয়ার, পরিচালক দীপঙ্কর দিপন এবং অভিনেতা আরিফিন শুভ। আর অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষন ছিলেন “ঢাকা অ্যাটাক” এর তারকা খলনায়ক অস্ট্রেলিয়ান অভিনেতা তাসকিন রহমান যিনি তার অভিনয় এবং ব্যক্তিত্ব দিয়ে সবার মন জয় করেছেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বঙ্গজ ফিল্মস এর প্রতিষ্ঠাতা তানিম মান্নান উপস্থিত সকলকে সাদর আমন্ত্রন জানান এবং “ঢাকা অ্যাটাক” এর বাংলাদেশের সাফল্য তুলে ধরেন। চলচ্চিত্রটির ব্যাপারে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আগ্রহের ফলশ্রুতিতে বঙ্গজ ফিল্মস অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড এর পরিবেশনার দায়িত্ব নেয় এবং বিভিন্ন শহর গুলোতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তির সাথে অংশিদার হয়ে শো এর আয়োজন করছে। সিডনির শো গুলোতে বঙ্গজ ফিল্মস এর অংশিদার হিসেবে আছেন বাংলাদেশ আইডল সিডনি, ইগল এন্টারটেইনমেন্ট, ই এস আই গ্লোবাল, জে এ মাল্টিমিডিয়া, খোয়াব, ওয়ান কয়েন, সুর ইভেন্টস, রুবস এন্টারটেইনমেন্ট এবং বাংলাদেশ নাইট এর অন্যতম আয়োজন মাহমুদ হোসেন ইমন। চলচ্চিত্রটি এই অঞ্চলে নিয়ে আসার আরেকটি কারন হলো এটি নির্মিত হয়েছে বাংলাদেশ পুলিশের কিছু সত্যিকার ঘটনার উপর ভিত্তি করে।

Tanim Manan

এরপরই অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত বাংলাদেশ পুলিশের এএসপি জাহেদ পারভেজ চৌধুরিকে অনুরোধ করা হয় এ ব্যাপারে কিছু বলার জন্য। তিনি বিশ্বাস করেন বাংলাদেশের চলচ্চির অঙ্গনে মান সম্পন্ন সফল বানিজ্যিক সিনেমার যে শুন্যতা আছে তা “ঢাকা অ্যাটাক” অনেকাংশেই পূরণ করেছে। যেটি বানিয়েছেন একজন নতুন পরিচালক এবং কাহিনীকার যা বাকি যারা নতুন আসবেন তাদেরকেও উদবুদ্ধ করবে বাস্তবধর্মি নির্মানে।

এ সময় একই সাথে অনুষ্ঠানে এসে পৌছেন তাসকিন রহমান এবং ফেসবুক মেসেঞ্জারে যোগ দেন বাকিরা।  আগত সাংবাদিক এবং অতিথিদের মাধ্যমে অভিনেতা আরিফিন শুভ অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড এর সকল দর্শক কে অনুরোধ করেন চলচ্চিত্রটি দেখে মন্তব্য করার জন্য। উনি আশা করেন বাংলাদেশের গন্ডি পেরিয়ে ঢাকা অ্যাটাক অস্ট্রেলিয়াতেও রেকর্ড গড়বে। তার আন্তরিক বাচনভঙ্গি এবং সেন্স অফ হিউমার সবাইকে সরব করে তোলে।

Tanim Manan

এরপরই কথা বলেন কাহিনীকার এবং প্রযোজক সানি সানোয়ার যিনি বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশের এডিসি (কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগ, ডি এম পি)। তিনি চলচ্চিত্রটি তৈরির পূর্ব ইতিহাস তুলে ধরেন যখন তার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী এবং বন্ধু দীপঙ্কর দিপনের সু্যোগ হয় বাংলাদেশ পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজমসহ অন্যান্য বিভাগের কিছু অত্যাধুনিক কর্মকান্ড দেখার যা সাধারন জনগনের অনেকেই জানেন না। তখনই তারা পরিকল্পনা করেন এই অজানা অধ্যায়ের কিছুটা সুনিপুনভাবে তুলে ধরার। কাহিনী লেখার সময় বাস্তবে নিয়মিত ঘটতে থাকে কর্মকান্ড এবং তার চেয়েও বেশি বাস্তব অনুভুতিগুলোকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। আজকের সাফল্য এবং সকল দর্শকের প্রশংসা তারই সার্থক প্রতিদান। এই অঞ্চলের দর্শকদের সিনেমাটি ভাল লাগলে ওনারা ইতিমধ্যে সিনেমাটির সিক্যুয়েল বানানোর পরিকল্পনা করছেন যেখানে কাহিনীর অনেকাংশ হয়ত আবর্তিত হবে অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড অঞ্চলে।

পরিচালক দীপঙ্কর দিপনও মুগ্ধ করেছেন তার সাবলীল এবং মেধাদীপ্ত অভিমত দিয়ে। প্রশ্ন করা হলে জানান, চলচ্চিত্র নিয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিতে তিনি যখন মুম্বাই সহ বিভিন্ন দেশ কিংবা শহরে গেছেন, প্রায়শই একটি অভিজ্ঞতা হত। বিভিন্ন বাজেট হোটেল ও গেস্ট হাউজে বাংলাদেশি পরিচয় দিলেই জানিয়ে দেয়া হোত রুম নেই কিংবা দেয়া যাবেনা। একটু খবর নিতেই শুনতে হোত বাংলাদেশিরা টেররিস্ট লিস্টে আছে এবং থানা থেকেই নিষেধ আছে রুম দেয়ার ব্যাপারে। তখন থেকেই প্রবল একটা ইচ্ছা ছিল পৃথিবীকে জানাবার যে বাংলাদেশ নিজেও টেররিমজ মোকাবিলায় কতটা সক্রিয় এবং যোগ্য। সিনেমাটি দর্শকদের কেমন লাগবে জিজ্ঞেস করলে তিনি আত্ববিশ্বাসের সাথে জানান যে একটি শোতে দর্শক গেলেই বুঝতে পারবেন, আর তারা যখন তাদের অভিজ্ঞতা এবং অনুভুতি জানাবেন আরও বেশকটা শো আয়োজন করতে হবে দর্শকদের আগ্রহের কারনে।বাংলাদেশেও ঠিক যেমনটা হয়েছে।

Tanim Manan

এরপরই কথা বলেন  রাতারাতি তারকা খ্যাতি অর্জন করা তাসকিন রহমানকে  নিয়ে যিনি সব চাইতে বেশি আলোচিত হচ্ছেন এই সিনেমার খলনায়ক চরিত্র ‘জিসান’ হিসেবে অভিনয় করে। তার ব্যাপারে বাকিদের কাছে জানতে চাওয়া হয়।

পরিচালক দীপঙ্কর দিপন এর মতে জিসান এর প্রতি দর্শকদের যে একটি অভাবনীয় আকর্ষন তৈরি হয়েছে তার অনেকটাই তাসকিনের অভিনয় গুনে। নিজের সেরাটাই ঢেলে দিয়েছেন চরিত্রটিকে বুঝতে এবং সে অনুযায়ি নিজেকে বদলে ফেলতে। আর সাথে তার ব্যক্তিত্ব এবং গুডলুকস তো আছেই।

অভিনেতা আরিফিন শুভ এক বাক্যে জানিয়ে দিলেন যে ঢাকা অ্যাটাক এর স্ক্রিনে তিনি নায়ক হলেও সকল দর্শকের কাছে বাস্তবে নায়ক হচ্ছে তাসকিন।

পরিশেষে সানি সানোয়ার মজা করে বললেন ‘আমার জানা মতে বাকের ভাইয়ের পর এই প্রথম আর কোন গল্পের চরিত্রের যাতে মৃত্যু না হয়, সেই প্রত্যাশাই করছেন অগনিত দর্শক’। এটা সম্পূর্নভাবেই তাসকিনের অর্জন।

এই পর্যায়ে বাকি তিনজন বিদায় নিলে, অনুষ্ঠান জমে উঠে সিডনির প্রবাসী  তাসকিন রহমানকে নিয়ে। বাংলাদেশে না থাকাতে তাকে নিয়ে যে বিশাল উত্তেজনা চলছে তার পুরোটা তিনিও এখনও বুঝে উঠতে পারছেন না। সহজাত নম্র কিন্তু প্রখর বুদ্ধিমত্তার ঝলক তার স্বাভাবিক কথাবার্তায়। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবের ফাকে জানালেন আরও বেশকটি বাংলা সিনেমাতে অভিনয় করলেও ঢাকা অ্যাটাক প্রথম মুক্তি পেল। আর এ সিনেমাতেই অভিনয়ের অভিজ্ঞতাটা সবচাইতে ভাল জানালেন তিনি। বিশেষত সময়ানুবর্তিতার এবং প্রফেশনালিজমের ব্যাপারে সিনেমার কারও সামান্যতম ঘাটতিও ছিলনা জানালেন। বাংলা সিনেমার সচরাচর যে খলনায়কদের আমরা চিনি তার সাথে তাসকিনকে মেলানো অসম্ভব। অভনিয়টা শখের বশে শুরু হলেও ব্যক্তিজীবনে তিনি নিউরোলজি বিষয়ে গবেষনা করছেন যা তার পি এইচ ডি প্রোগ্রামের অন্তর্গত!! আর বিষয়গত এই শিক্ষার প্রয়োগ করেছেন জিসান চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে যা তার নিজের চরিত্রের সম্পুর্ণ বিপরীত।

অনুষ্ঠানের এই পর্যায়ে উপস্থিত অতিথিদের কেউ কেউ একই দিনে দুটি বাংলা সিনেমার আয়োজন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলে আয়োজকদের তরফ থেকে তাদেরকে অনুরোধ করা হয় ব্যাপারটিকে ইতিবাচক ভাবে নেয়ার জন্য। আয়োজকদের পক্ষে তানিম মান্নান বলেন, এই প্রথম একই দিনে একই সিনেমা হলে কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন সময়ে অর্থাৎ পরপর দুটি বাংলা সিনেমা দেখানো হবে। ৫০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশিরা বাস করেন সিডনি শহরে, কাজেই দুটো সিনেমা অবশ্যই এবং সহজেই হাউসফুল হবে। আমরা বিশ্বাস করি কোন বাংলাদেশিই এমন সফল এবং এন্টারটেইনিং সিনেমা মিস করতে চাবেন না। তাই আমাদের বরং আরও বেশি শো এর আয়োজন এবং দর্শকদের আরও বেশি আনন্দ কিভাবে দেয়া যায়, তাতেই মনোযোগ দেয়া উচিৎ। প্রসংগক্রমে তিনি সবাইকে আসন্ন বাংলাদেশ নাইট অনুষ্ঠানটিতে অংশগ্রহনের জন্য অনুরোধ জানান যা আগামি ৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।

অবশেষে সকলের উপস্থিতিতে ঢাকা অ্যাটাক সিনেমাটি অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড এ মুক্তির দিন ক্ষন জানানো হয়। কৃতজ্ঞতা জানানো হয় সিডনি শো এর স্পন্সর ফাস্ট রেমিট এবং এইচবিডি সার্ভিসেস কে এবং নব নির্বাচিত কাউন্সিলর শাহে জামান টিটোকে তার আন্তরিক সহযোগিতার জন্য। জনাব শাহে জামান টিটো তার শুভেচ্ছা বক্তব্যে আয়োজকদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং সাফল্য কামনা করেন।

সিডনি শোএর টিকেট অনলাইনে পাওয়া যাবে ইভেন্টস এন টিকেটস এবং ক্রেজিটিকেটস এর মাধ্যমে। পরিশেষে সিডনির স্থানীয় আয়োজকদের সাথে সবাইকে পরিচিত করিয়ে দেবার পর আগত অতিথিদের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি সমাপ্তি ঘোষনা করা হয়।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT