Main Menu

এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ায় তরুণ এমপিদের প্রতিনিধিত্ব কম

ইয়ুথ পার্টিসিপেশন ইন ন্যাশনাল পার্লামেন্ট-২০১৬ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বিশ্বের ১২৮টি দেশের ৪৫ হাজার পার্লামেন্ট সদস্যদের মধ্যে ৩০ বছরের নিচে বয়স—এমন এমপির সংখ্যা মাত্র ১ দশমিক ৯ ভাগ। এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ায় তরুণ এমপির প্রতিনিধিত্ব কম। সবচেয়ে বেশি সুইডেনে। প্রায় ৩৩ শতাংশ নিম্নকক্ষ এবং ৮০ শতাংশ উচ্চকক্ষে ৩০ বছরের কম বয়স—এমন এমপি একজনও নেই।

বিশ্বের ১২৮টি দেশের সংসদের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বে ২০ থেকে ৪৪ বছর বয়সী ভোটারের সংখ্যা ৭ ভাগ—রাজনীতিবিমুখতার কারণে যাঁদের অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রে যেতে আগ্রহী নন।

সংবাদ সম্মেলনে ইয়ুথ পার্লামেন্টারিয়ানের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট উগান্ডার এমপি মাওরিন অশ্রু রাজনীতিতে তরুণদের আগ্রহ না থাকার কারণ ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, যুবকদের মতে, রাজনীতি নোংরা। রাজনীতিবিদেরা মিথ্যা কথা বলেন। আকাশকুসুম প্রতিশ্রুতি দেন, যা বাস্তবায়নের অযোগ্য। যে কারণে তাঁরা রাজনীতিবিমুখ হয়ে পড়েছেন। অথচ রাজনীতিতে তরুণ সমাজের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি। কারণ তাঁরা সচেতন, উদ্ভাবনী ক্ষমতাসম্পন্ন এবং তথ্যপ্রযুক্তিতে এগিয়ে রয়েছেন।

ইয়ুথ ফোরামের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘তরুণদের বেশির ভাগই উত্তরাধিকারের রাজনীতি থেকে এসেছেন। তাঁদের অনেকেই রাজনীতিকের সন্তান বা ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজন। রাজনীতি খুবই আকর্ষণীয়, তবে যুবসমাজ এতে আকর্ষণ বোধ করছে না। রাজনীতিতে যুবসমাজের আস্থা ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইপিইউ ফোরামের মাধ্যমে এ বিষয়ে আমরা কাজ করতে চাই।’

রাজনীতিতে তরুণদের কম অংশগ্রহণ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মাওরিন বলেন, তরুণদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হতে নানা ধরনের বাধার সম্মুখীন হতে হয়। বিশেষ করে অর্থ, ভোটারদের সাড়া পাওয়া, রাজনীতির মনোনয়ন নিশ্চিত করাসহ নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে এর মধ্যে।

নির্বাচনের সুযোগ বিষয়ে নিজের দেশের বৈষম্যমূলক পরিস্থিতি তুলে ধরে মাওরিন জানান, ১৮ বছর বয়সে সবাই প্রাপ্তবয়স্ক হয়। এ সময় তাঁকে সাজার আওতায় এনে প্রয়োজনে জেলেও পাঠানো হয়। কিন্তু এই বয়সে তাঁরা নির্বাচন করতে পারেন না।

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি তরুণ এমপির প্রতিনিধিত্ব সুইডেনে। দেশটিতে ১২ দশমিক ৩ শতাংশ এমপির বয়স ৩০ বছরের মধ্যে। ইকুয়েডর রয়েছে দ্বিতীয় অবস্থানে, ১০ দশমিক ৯ শতাংশ। ১০ দশমিক ৫ শতাংশ এমপি নিয়ে ফিনল্যান্ড তৃতীয় স্থানে। এরপরে নরওয়ে ১০ দশমিক ৮ শতাংশ।

৪০ বছরের নিচে বয়স ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ এমপি রয়েছে ডেনমার্কে। অ্যান্ডোরাতে এ হার ৩৯ দশমিক ৩ শতাংশ। ইকুয়েডর ৩৮ শতাংশ এমপির বয়স ৪৫ বছরের নিচে। এ হার ওমানে ৬৫ দশমিক ৯ শতাংশ, ইথিওপিয়াতে ৬৩ দশমিক ৬ এবং অ্যান্ডোরা ৬০ দশমিক ৭ শতাংশ।

প্রতিবেদন অনুসারে আমেরিকা-ইউরোপ-আফ্রিকান দেশগুলোতে ৩০ বছরের কম বয়সী সর্বাধিক সাংসদ রয়েছে। এ হিসেবে এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ায় তরুণ প্রতিনিধিত্ব কম। সাম্প্রতিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত নয়টি দেশের উদাহরণ দিয়ে বলা হয়, এই নির্বাচনে ৪৫ বছরের নিচের বয়সী ৫০ শতাংশ সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT